আগরতলা, ৮ ফেব্রুয়ারি : ত্রিপুরায় আগর, রাবার, বাঁশ ও বেত, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং পর্যটনে শিল্প বান্ধব পরিবেশ রয়েছে। শিল্প স্থাপনের জন্য রয়েছে সুযোগ সুবিধা। শনিবার আগরতলায় বেসরকারি একটি হোটেলে ডেসটিনেশন ত্রিপুরা শীর্ষক বিজনেস কনক্লেভে শিল্পপতিদের আহ্বান জানিয়ে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। কনক্লেভে বক্তব্য রাখেন শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের মন্ত্রী সান্তনা চাকমা সহ অন্যান্যরা। এই বিজনেস কনক্লেভে একাধিক মৌ স্বাক্ষরিত হয়।
শুক্রবার থেকে রাজধানী আগরতলা শহরের একটি বেসরকারি হোটেলে বিজনেস কনক্লেভ শুরু হয়েছে। শনিবার ছিল অন্তিম দিন। এদিন এই কনক্লেভে যোগদান করেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। কনক্লেভে উপস্থিত ছিলেন শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের মন্ত্রী সান্তনা চাকমা, দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্যে সহ অন্যান্য আধিকারিকরা। এই বিজনেস কনক্লেভের থিম রাখা হয় ডেসটিনেশন ত্রিপুরা। শনিবার বিজনেস কনক্লেভে বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা।
বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের আগর কাঠ, রাবার, বাঁশ ও বেত, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং পর্যটনের বিভিন্ন দিকগুলি উপস্থিত শিল্পপতিদের সামনে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, রাজ্যের আগর কাঠ খুবই প্রসিদ্ধ।রাজ্যের প্রায় ২০০ হেক্টর জমিতে পাঁচ ট্রিলিয়ন আগর গাছ রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের দ্বিতীয় রাবার ক্যাপিটাল ত্রিপুরা। রাজ্যের বিশাল সংখ্যক জনগণের আর্থসামাজিক উন্নয়নে রাবার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করে চলছে। এই দিকটিকে গুরুত্ব দিতে রাজ্য সরকার রাবার শিল্পে অতিরিক্ত সাবসিডি প্রদান করছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, রাজধানীর অনতিদূরে বোধজংনগরে ৬০ একর জমির উপর রাবার শিল্প গড়ে উঠেছে। শান্তিরবাজারে দ্বিতীয় রাবার পার্ক গড়ে উঠেছে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, রাজ্যে ২১ প্রজাতির বাঁশ চাষ হচ্ছে। রাজ্য সরকার বেম্বো সেক্টরের সার্বিক উন্নয়নে স্টেট ব্যাম্বু মিশন গড়ে তুলেছে।বাঁশ বেতের কারুশিল্পে প্রচুর সংখ্যক লোক নিযুক্ত রয়েছেন। রাজ্যের বাঁশ এবং বেতকে নির্ভর করে একাধিক ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প গড়ে উঠেছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের জিআই ট্যাগপ্রাপ্ত কুইন আনারস, কাঁঠাল এবং কমলার ফুড প্রসেসিং সেন্টারের কথাও তুলে ধরেন তিনি।পাশাপাশি রাজ্যের পর্যটন শিল্পের বিভিন্ন দিকগুলিও তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বহিঃরাজ্য থেকে আগত শিল্পপতিদের স্বাগত জানান শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী সান্তনা চাকমা। কনক্লেভে বক্তব্য রাখেন দফতরের সচিব কিরণ গিত্যে। এই বিজনেস কনক্লেভে শিল্পপতিদের সাথে রাজ্য সরকারের একাধিক মৌ স্বাক্ষরিত হয়। প্রায় ৬০০ কোটি টাকার মৌ স্বাক্ষরিত হয় বলে জানা গেছে।