আগরতলা, ৬ ফেব্রুয়ারি : ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষাক্ষেত্রে ভিত মজবুত করতে মনযোগী হতে শিক্ষক শিক্ষিকাদের প্রতি আহ্বান জানালেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। বৃহস্পতিবার আগরতলায় রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে রাজ্যভিত্তিক টিচিং লার্নিং মেটেরিয়েল তথা টিএলএম প্রদর্শনী ও প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করে এই আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী।
একটি বহুতল ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে ভিত মজবুত না হলে উপরের দিকে উঠা সম্ভব নয়। ঠিক তেমনি ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষার ভিতকে মজবুত করতে প্রাথমিক স্তরে তাদেরকে উন্নত শিক্ষা প্রদান করতে হবে। তা না হলে আগামীদিনে এই ছাত্র-ছাত্রীরা সমাজ, দেশ কিংবা নিজের জন্য কোন কিছু করে উঠতে পারবেনা। বৃহস্পতিবার রাজধানী আগরতলায় রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে রাজ্যস্তরীয় টিচিং লার্নিং মেটেরিয়েল তথা টিএলএম প্রদর্শনী ও প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডঃ মানিক সাহা। মুখ্যমন্ত্রীর সাথে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা দপ্তরের বিশেষ সচিব রাভাল হেমেন্দ্র কুমার, এসসিইআরটি ত্রিপুরার অধিকর্তা এল ডারলং এবং বিদ্যালয় শিক্ষা দপ্তরের অধিকর্তা এন সি শর্মা সহ অন্যান্যরা।
উল্লেখ্য, নিপুন ত্রিপুরা মিশনের উদ্যোগে ২০২৩ সালে প্রথমবারের মত রাজ্যে টিএলএম প্রদর্শনী তথা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল। ২০২৩ সালের পর ২০২৫ সালে দ্বিতীয় বারের মত নিপুন ত্রিপুরা মিশন ও বুনিয়াদি শিক্ষা দপ্তরের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হচ্ছে রাজ্যস্তরীয় টিচিং লার্নিং মেটেরিয়েল তথা টিএলএম প্রদর্শনী ও প্রতিযোগিতা। এই প্রদর্শনীতে রাজ্যের আটটি জেলা থেকে আগত ১৬০টির অধিক টিএলএম প্রদর্শিত হচ্ছে। নিপুন ত্রিপুরা মিশনের অধীন প্রায় প্রতিটি বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকারা প্রথমে মহকুমা স্তরে প্রদর্শনী ও প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন এবং সেখান থেকে নির্বাচিত শিক্ষক-শিক্ষিকারা তাঁদের টিএলএম নিয়ে জেলাস্তরে আয়োজিত টিএলএম প্রদর্শনী ও প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে জেলাস্তরে প্রতিটি জেলা থেকে ২০টি করে নির্বাচিত টিএলএম এই রাজ্যস্তরীয় প্রদর্শনী ও প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে।
এদিন বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন, শিক্ষাক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের মূল উদ্দেশ্য হল বিভিন্ন নীতি ও কর্মসূচি তৈরি করে তার সফল বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে গুনগত শিক্ষণ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা। দরিদ্র জনজাতি ও সংখ্যালঘু অংশের ছাত্র-ছাত্রীদের উন্নয়ন নিশ্চিত করা এবং যোগ্য ছাত্র-ছাত্রীদের বৃত্তি ও ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা করা। তিনি আরো বলেন, ২০২৩ সালে আয়োজিত টিএলএম প্রদর্শনী তথা প্রতিযোগিতায় প্রায় ৩০০০ শিক্ষক-শিক্ষিকা অংশগ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু এবছর এই প্রদর্শনী ও প্রতিযোগিতায় সাত হাজারের অধিক অধিক শিক্ষক-শিক্ষিকারা অংশগ্রহণ করেন, যা অতন্ত্য আনন্দের এবং গর্বের বিষয়।
রাজ্যস্তরীয় এই প্রতিযোগিতায় নির্বাচিত সেরা ১০টি টিএলএমকে পুরস্কৃত করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ৫টি ভাষাগত এবং ৫টি গাণিতিক বিষয়ক টিএলএম। এছাড়াও সব থেকে বেশী সংখ্যক টিএলএম তৈরি করে মহকুমা এবং জেলাস্তরের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করার জন্য একটি জেলার জেলা শিক্ষা আধিকারিক এবং জেলা প্রতিনিধিদেরকেও পুরস্কৃত করা হয় এদিন। পাশাপাশি মহকুমাস্তরে সব থেকে বেশী টিএলএম নিয়ে অংশগ্রহণের জন্য একটি মহকুমার সংশ্লিষ্ট ইন্সপেক্টর অফ স্কুলস-কেও পুরস্কৃত করা হয়। এছাড়াও আমতলির বিবেকনগরস্থিত রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যালয়কে ফাউন্ডেশনাল লিটারেসি এন্ড নিউমারেসি ক্ষেত্রে বিশেষ অনুসন্ধানমূলক কাজ এবং ৩৬০° হলিস্টিক ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের জন্য বিশেষ পুরষ্কারে পুরস্কৃত করা হয় এদিন।