কৈলাসহর, ৯ জুলাই : ত্রিপুরার ঊনকোটি জেলা পুলিশের সফলতার কাহিনী শোনাতে গিয়ে সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নে রীতিমত কপোকাত পুলিশ সুপার কান্তা জাঙ্গীর। বেরিয়ে এল বহু বিফলতার তথ্য। সাংবাদিক সম্মেলনে জেলার পুলিশ সুপার ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ভি. ডার্লং, ডি.এস.পি উৎপলেন্দু দেবনাথ, কৈলাসহর মহিলা থানার ওসি রিপিতা ভট্টাচার্য।
একটি অপহরণ ও চুরির ঘটনার বিষয় জানাতেই কৈলাসহর মহিলা থানার ওসির কক্ষে সাংবাদিক সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার বলেন, রথযাত্রার দিন মানুষ যখন আনন্দে মত্ত ঠিক তখন মহকুমার এক বখাটে যুবক এক যুবতীকে তার বাড়ি থেকে একটি গাড়িতে তুলে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে যুবতীর বাড়ির লোকজন থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ তড়িঘড়ি যুবতীকে খোঁজে বের করতে একটি বিশেষ টিম গঠন করে। একটি বিশেষ সুত্রের খবর অনুযায়ী পুলিশ জানতে পারে যে অপহরণকারীরা ফটিকরায় বিধানসভার অন্তর্গত আসামবস্তী এলাকায় রয়েছে। সেই মোতাবেক আসামবস্তীতে পুলিশ চিরুনী তল্লাশি চালিয়ে একটি পরিত্যাক্ত ঘর থেকে অপহরণকারী অতনু সিনহা সহ মেয়েটিকে উদ্ধার করে। পুলিশ সুপার জানান, মেয়েটির বাবা ৫ জনের বিরুদ্ধে অপহরণের অভিযোগ করলেও এখন পর্যন্ত অপহরণের মাস্টারমাইন্ড অতনু সিনহা ও তার আরো এক সঙ্গী গ্রেফতার হয়েছে। আর বাকি তিনজনকে খুঁজছে পুলিশ।
কৈলাসহর শহরে ঘন ঘন চুরি কান্ড নিয়ে তিনি জানান শুভাশীষ নাথ ও বিমল কৃষ্ণ রায়ের বাড়ির চুরি কান্ডে এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে চুরি হওয়া কিছু স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার সহ কিছু নগদ অর্থও উদ্ধার হয়েছে। চুরি কান্ডে পুলিশ যাদের গ্রেফতার করেছে তারা হল (১)রোশন আলী (২)হোসেন আলী (৩) ইয়াকুব আলী ও (৪)মুতালিফ আলী।
দুটো অভিযোগের বিস্তারিত জানানোর পর পুলিশ সুপার কান্তা জাঙ্গীর সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন যে, তাদের কোনো প্রশ্ন থাকলে করতে পারেন। সেই মোতাবেক সাংবাদিকদের প্রথম প্রশ্ন ছিল গৌরনগর আর.ডি ব্লকে অফিস চলাকালীন যে সকল দুষ্কৃতকারীরা অফিসের ভেতর ঢুকে সরকারী কর্মচারীকে মারধর করল তাদের কবে গ্রেফতার করবে পুলিশ। উত্তরে পুলিশ সুপার এক প্রকার প্রশ্নের পাশ কাটিয়ে বলেন আমরা অভিযুক্তদের বাড়িতে অনেকবার আমাদের টিম পাঠিয়েছি তাদের ধরার জন্য কিন্তু তাদের পাওয়া যায়নি। পুলিশ তাদের খোঁজছে। খুব দ্রুত তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
দ্বিতীয় প্রশ্ন ছিল শহরে পুর পরিষদ এলাকায় কবি ও প্রয়াত প্রধানমন্ত্রীর আবক্ষ মূর্তি ভাঙচুরের বিষয়ে থানায় অভিযোগ রয়েছে সে বিষয়ে তদন্ত কতটুকু এগিয়েছে। এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন তদন্ত চলছে এখনো কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তৃতীয় প্রশ্নে জানতে চাওয়া হয় পুর এলাকার ১৭ নং এলাকার এক নাবালিকা ৮ মাস ধরে নিখোঁজ সে বিষয়ে পুলিশি তদন্ত কতদূর এগিয়েছে। এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন নিখোঁজ নাবালিকা অন্য একটি রাজ্যে রয়েছে। পুলিশ তদন্ত করছে তাকে ফিরিয়ে আনা হবে। চতুর্থ প্রশ্নে কৈলাসহর থানার সামনে এক মহিলার ব্যাগ থেকে ১০ হাজার টাকা ছিনতাই হয়েছে যার অভিযোগ কৈলাসহর থানায় করা হয়েছে সে বিষয়ে পুলিশ কি করছে। উত্তরে পুলিশ সুপার জানান তদন্ত চলছে।
এধরনের আরো অনেক প্রশ্ন সাংবাদিকদের তরফ থেকে ছুড়ে দিলেও জেলা পুলিশ সুপার একই উত্তরই দিচ্ছিলেন,“তদন্ত চলছে”। সাংবাদিক সম্মোলনে নিজেদের গুনগান করতে এসে প্রশ্নবাণে এক প্রকার বিদ্ধ হয়ে গেলেন জেলা পুলিশ সুপার। সফলতার কথা তুলে ধরতে বিফলতার তথ্য উঠে এল বেশী।