আগরতলা, ৪ জুলাই।। লোকসভা নির্বাচনের জন্য কিছুদিন স্থগিত থাকার পর আজ থেকে পুনরায় শুরু হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী সমীপেষু কর্মসূচি। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাহায্য প্রত্যাশী জনগণ আজ মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহার সরকারি বাসভবনে সাক্ষাৎ করে বিভিন্ন বিষয়ে সহায়তার আবেদন জানান। মুখ্যমন্ত্রী সমীপেষু কর্মসূচিতে ২২ জন নাগরিক সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে তাদের অভাব, অভিযোগ ও সমস্যা সম্পর্কে মুখ্যমন্ত্রীকে অবগত করেন। মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়ে দ্রুত সমাধানে সচেষ্ট হন।
চিকিৎসার বিষয়ে সহায়তার জন্য এসেছিলেন পশ্চিম যোগেন্দ্রনগরের আদর্শ কলোনীর প্রসেনজিৎ দাস, বাধারঘাটের রঞ্জিত দাস, কাঁঠালতলীর রাজু ঘোষ, রাণীরবাজার মধুপুরের অর্পিতা দেবনাথ, বামুটিয়ার উত্তম বিশ্বাস, বড়দোয়ালির তপন কুমার রায়, রামনগরের শুক্লা সাহা, হাঁপানিয়ার স্বপন দেবনাথ প্রমুখ। তাঁদের চিকিৎসার বিষয়ে সহায়তার পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে রাজ্যেই উন্নত চিকিৎসা পরিষেবার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। তাই কথায় কথায় বাইরে যাবার প্রবণতা ত্যাগ করে রাজ্যের চিকিৎসা পরিষেবার সুযোগ গ্রহণ করার জন্য মুখ্যমন্ত্রী তাদের পরামর্শ দেন। এ বিষয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা এবং মুখ্যমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনার সুবিধা নেওয়ার জন্য পরামর্শ দেন।
মুখ্যমন্ত্রী সমীপেষু কর্মসূচিতে উপস্থিত জিবিপি হাসপাতাল এবং ক্যান্সার হাসপাতালের সুপারদ্বয়কে চিকিৎসার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সহায়তার নির্দেশ দেন। সামাজিক ভাতা সংক্রান্ত বিষয়ে ধলেশ্বরের নমিতা ভৌমিক, জিরানীয়ার আল্পনা সাহার আবেদনের ভিত্তিতে মুখ্যমন্ত্রী তৎক্ষণাৎ সমাজ কল্যাণ দপ্তরের সচিব তাপস রায়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এছাড়াও জমি, রাস্তাঘাট, দোকানের তৌজি বিষয়গুলি সমাধানের জন্য ‘মুখ্যমন্ত্রী সমীপেষু’তে যারা এসেছিলেন তাদের বিষয়েও মুখ্যমন্ত্রী অবগত হন এবং সঙ্গে সঙ্গে আগরতলা পুর নিগমের মেয়রের সাথে কথা বলে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন। মুখ্যমন্ত্রীর দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ায় সহায়তা প্রত্যাশীরাও ভরসা পেয়ে বাড়ি বাড়ি গেছেন।
মুখ্যমন্ত্রী সমীপেষু কর্মসূচিতে মুখ্যমন্ত্রীর সচিব ড. পি কে চক্রবর্তী, সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা দপ্তরের সচিব তাপস রায়, স্বাস্থ্য দপ্তরের অতিরিক্ত সচিব ড. ব্রাহ্মিক্ষ্মত কাউর, জিবিপি হাসপাতালের সুপার ডা. শঙ্কর চক্রবর্তী এবং ক্যান্সার হাসপাতালের সুপার ডা. এস দেববর্মা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।