স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা, ১০ আগস্ট।। স্বাস্থ্য পরিষেবায় নতুন দিশা দেখাচ্ছে উত্তর পূর্বাঞ্চলের ছোট রাজ্য ত্রিপুরা। সুচারলেস পারসিভাল টিশু বাল্ব সমগ্র উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মধ্যে প্রথমবারের মতো প্রতিস্থাপিত হল আগরতলা সরকারি মেডিকেল কলেজ তথা জিবিপি হাসপাতালে। এর আগে কলকাতার বেসরকারি হাসপাতালে যেতে হত রাজ্যের তথা সমগ্র উত্তর পূর্বাঞ্চলের রোগীদের এই পরিষেবার জন্য। জানিয়েছেন জিবিপি হাসপাতালে সুপার ডাক্তার শংকর চক্রবর্তী।
যে রোগীর হার্টে এই পার্সিবল টিস্যু বাল্ব প্রতিস্থাপন করা হয়েছে তার নাম সাবিত্রী সরকার (৬০)। তিনি সদর উত্তরাঞ্চলের সিধাই মোহনপুরের বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে তিনি হার্টের সমস্যায় ভুগছিলেন। বুকে ব্যথা হত ও তিনি হাপিয়ে উঠতেন। পেটে অলসারের কারণে মাঝে মাঝে রক্তের জন্য জিবিপি হাসপাতালে ভর্তি হতেন। হাসপাতালে পরীক্ষা নিরীক্ষায় চিকিৎসকেরা জানতে পারেন তার হৃদযন্ত্রের বাল্ব বিকল হয়ে গেছে। হাসপাতালের সিটিভিএস বিভাগে অতিসত্বর হৃদযন্ত্রের বাল্ব প্রতিস্থাপনের জন্য তার পরিবারের লোকেদের পরামর্শ দেওয়া হয়।
কিন্তু সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় এই প্রতিস্থাপনের জন্য যে ধরনের মেডিসিন গ্রহণ করতে হবে তাতে রোগীর পেট থেকে রক্তপাত ও ম্যারিনার সম্ভাবনা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি প্রবল। অবশেষে চিকিৎসকেরা বিশেষ পদ্ধতিতে টিস্যু বাল্ব প্রতিস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেন। এই বিশেষ পদ্ধতিতে রোগীকে এন্টিকোয়াগুলশন মেডিসিন খাওয়ার প্রয়োজন নেই। যার ফলে রক্তপাতের সম্ভাবনাও থাকবে না।
সেই মোতাবেক গত চার আগস্ট ওপেন হার্ট সার্জারি মাধ্যমে এই বিশেষ পার্সিবল টিস্যু বাল্ব প্রতিস্থাপন করা হয় সফল ভাবে, জানান ডাক্তার কনক নারায়ন ভট্টাচার্য। উন্নত মানের এই টিস্যু বাল্ব সুচারলেস বা কোন সুতুর ব্যবহার ছাড়াই রোগীর হার্টের মহা ধমনীর উৎপত্তিস্থলে প্রতিস্থাপন করেন ডাক্তার কনক নারায়ন ভট্টাচার্য সহ একটি কার্ডিয়াক সার্জারি টিম। ছয় ঘন্টা ব্যাপী চলে এই অস্ত্রোপচার। যাতে সহায়তা করেন কার্ডিয়াক এনেস্থিসিয়া বিশেষজ্ঞ ডাক্তার মণিময় দেববর্মা, ডাক্তার জয়দেব দেবনাথ, ডাক্তার সুরজিৎ পাল সহ টিমের অন্যান্য সদস্যরা।
বর্তমানে রোগীর অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে এবং তিনি স্বাভাবিকভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস নিচ্ছেন ও খাবার খাচ্ছেন। আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতায় রোগী কল্যাণ সমিতির সহায়তায় সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এই অস্ত্রোপচার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালে মেডিকেল সুপার ডাক্তার শংকর চক্রবর্তী। আগরতলার জিবিপি হাসপাতালে সফল এই অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে চিকিৎসা পরিষেবার ক্ষেত্রে শুধু রাজ্যবাসীর জন্যই নয় বরং গোটা উত্তর পূর্বাঞ্চলের জনগণের জন্য নতুন দিগন্তের উন্মোচন হল বলা চলে।