স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা, ২৬ আগস্ট।। মিজোরাম থেকে রাজ্যে আগত ব্রু শরনার্থী পরিবারদের স্থায়ী পুনর্বাসনের প্রক্রিয়াটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে।
এখন পর্যন্ত যেসব পরিবারের এলাকাভিত্তিক পুণর্বাসনের জন্য নামের তালিকা পাওয়া যায়নি তাদের তালিকা আগামী ৩১ আগস্ট, ২০২২ এর মধ্যে অবশ্যই দেওয়ার জন্য ব্রু শরনার্থী নেতৃবৃন্দকে আরও বেশী উদ্যোগী হতে হবে। আজ সচিবালয়ের ২নং সভাকক্ষে রাজ্যে ব্রু শরনার্থীর পুণর্বাসন প্রক্রিয়া নিয়ে পর্যালোচনা সভায় একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা।
তিনি বলেন, ভারত সরকার এবং ত্রিপুরা। সরকার, মিজোরাম সরকার ও ব্রু শরনার্থী সংগঠনের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরের ভিত্তিতে দীর্ঘ বছর পর ব্রু (রিয়াং) শরনার্থরা স্থায়ীভাবে ত্রিপুরায় পুণর্বাসনের সুযোগ পেয়েছেন। তাই এই পুণর্বাসন প্রক্রিয়াটি দ্রুততার সাথে শেষ করা প্রয়োজন। এই ক্ষেত্রে তিনি ব্রু শরনার্থী নেতৃবৃন্দ সহ সবার সহযোগিতা আহ্বান করেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় ছোট ছোট সমস্যা থাকতে পারে তবে এইগুলি সময়ের সাথে সাথে সমাধান করা হবে। কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশিকা অনুসারে আগামী ৩১ আগস্ট, ২০২২ এর মধ্যে স্বচ্ছতার সাথে ব্রু পুণর্বাসন প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার জন্য মুখ্যমন্ত্রী গুরুত্ব আরোপ করেছেন। সভায় রাজস্ব দপ্তরের প্রধান সচিব পুনীত আগরওয়াল রাজ্যে ব্রু পুণর্বাসন প্রক্রিয়ার অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি বলেন, রাজ্যে মিজোরাম থেকে আগত ব্রু (রিয়াং) শরনার্থীদের স্থায়ী পুনর্বাসনের কাজ এগিয়ে চলছে।
৬,৯৫৯ টি পরিবারের ৩৭, ১৩৬ জনকে পুণর্বাসনের লক্ষ্যে ১৩টি স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৩,৫২৬টি পরিবারকে মোট ৮টি জায়গায় পুনর্বাসন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত ১০৫১টি পরিবারের তালিকাও পুণর্বাসনের জন্য ব্রু নেতৃবৃন্দের কাছ থেকে পাওয়া গিয়েছে।
প্রধান সচিব বলেন, এখন পর্যন্ত ২,৩৮২টি পরিবারের এলাকাভিত্তিক পুনর্বাসনের জন্য নামের তালিকা ব্রু শরনার্থী নেতৃত্বদের কাছ থেকে পাওয়া যায়নি। তিনি আরও জানান, আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশিকা মেনে চিহ্নিত এলাকা ভিত্তিক পুনর্বাসনের জন্য ব্রু পরিবারের নামের তালিকা পাঠিয়ে এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে হবে।
পর্যালোচনা সভায় উপমুখ্যমন্ত্রী যীষ্ণু দেববর্মা, জনজাতি কল্যাণ মন্ত্রী রামপদ জমাতিয়া, মৎস্যমন্ত্রী প্রেম কুমার রিয়াৎ, বিধায়ক প্রমোদ রিয়াৎ, এমডিসি ভুমিকানন্দ রিয়াৎ, মুখ্যসচিব জে কে সিনহা, বন দপ্তরের প্রধান মুখ্য বনসংরক্ষক কে এস শেঠি, ধলাই, উত্তর এবং দক্ষিণ ত্রিপুরার জেলাশাসকগণ, রাজস্ব দপ্তরের অতিরিক্ত সচিব প্রদীপ আচার্য সহ ব্রু সংগঠনের নেতৃবৃন্দগণ উপস্থিত থেকে আলোচনায় অংশ নিয়েছেন।