স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা, ১৯ আগস্ট।।মহারাজা বীর বিক্রম কিশোর মাণিক্যের মূর্তি কামান চৌমুহনির পাশের আইল্যান্ডে স্থাপন করা হবে। তাছাড়া বটতলার রাজ পরিবারের শ্মশান ঘাটটি অচিরেই সংস্কার করা হবে। আজ মহারাজা বীর বিক্রম কিশোর মাণিক্য বাহাদুর দেববর্মণের ১১৪তম জন্মজয়ন্তী। উদযাপনের অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে এই ঘোষণা দেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা।
তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের উদ্যোগে রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের শুরুতে মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহা সহ অন্যান্য অতিথিরা মহারাজা বীর বিক্রমের প্রতিকৃতিতে মালাদান করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।মুখ্যমন্ত্রী শ্রী সাহা বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, মহারাজা বীর বিক্রম কিশোর মাণিক্য তাঁর সময়ে কৃষি, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে অনেক কাজ করে গেছেন।
তিনি তাঁর পূর্বসূরি বীরচন্দ্র মাণিক্য, রাধাকিশোর মাণিকা এবং বীরেন্দ্র কিশোর মাণিক্য বাহাদুররা রাজ্যের জাতি, জনজাতির সার্বিক বিকাশে যে চিন্তাধারা নিয়ে কাজ শুরু করেছিলেন তার পূর্ণতা প্রদান করেছেন। তাঁর সময়ে জনজাতি সমাজপতিদের পরামর্শ নিয়ে রাজন্য কাজ পরিচালনা করা হতো। সেদিক দিয়ে বিচার করলে তৎকালীন সময়েই মহারাজা গণতান্ত্রিক চিন্তাধারার প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, মহারাজা বীর বিক্রম একাধারে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সৃজনশীলতার অধিকারী ছিলেন। হিন্দু রাজা হয়েও তিনি সর্বধর্মকে সমান সম্মান দিতেন। তাঁর আমলেই রাজ্যে ব্যাঙ্ক, ট্রেজারি ইত্যাদি স্থাপিত হয়েছিল। মহারাজা তাঁর ইউরোপ, আমেরিকা ভ্রমণের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ত্রিপুরা রাজ্যের উন্নয়নে সচেষ্ট হয়েছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী ডা. সাহা আরও বলেন, ইতিহাসকে বিকৃত করে সোনালি ভবিষ্যৎ গড়া সম্ভব নয়।
বর্তমান কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার দেশের ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদের সর্বদাই মূল্যায়ন করার চেষ্টা করছে। তাই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজে উপস্থিত হয়ে আগরতলার পুরাতন বিমানবন্দরে মহারাজা বীর বিক্রম কিশোর মাণিক্যের পূর্ণাবয়ব মূর্তির উন্মোচন করে গেছেন। বিগত সরকারগুলির সময় ত্রিপুরার রাজন্য আমলের ইতিহাসকে গোপন করে রাখা হয়েছিল।
কিন্তু বর্তমান রাজ্য সরকার প্রধানমন্ত্রীর মার্গ দর্শনে রাজ্যের জনজাতিদের প্রকৃত উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। ত্রিপুরা উপজাতি এলাকা স্বশাসিত জেলা পরিষদের আসন সংখ্যা যাতে বাড়িয়ে ৫০টি করা হয় তারজন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এর উদ্দেশ্য একটাই যাতে জনজাতিদের ১৯টি গোষ্ঠী এডিসি এলাকার উন্নয়নে সামিল হতে পারে।
এছাড়াও একলব্য স্কুল নির্মাণ, ড্রপ আউট জনজাতি ছাত্রছাত্রীদের বিশেষ শিক্ষার ব্যবস্থা, সমাজপতিদের সম্মানিক ভাতা শুরু, রিসাকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে এই সরকার জনজাতিদের আর্থসামাজিক মানোন্নয়ন করার লক্ষ্যে কাজ করছে। অনুষ্ঠানে উপমুখ্যমন্ত্রী যীষ্ণু দেববর্মা বলেন, মাণিক্য বংশের গৌরব ছিলেন মহারাজা বীর বিক্রম। তিনি বহুমুখী প্রতিভা, মানবিকতায় পরিপূর্ণ ও অনন্য সাধারণ ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন। উপমুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ত্রিপুরার রাজারা প্রচার বিমুখ ও প্রজাহিতৈষী ছিলেন।
কৃষ্টি ও সংস্কৃতি এই রাজ্যের সবচেয়ে বড় সম্পদ। আর মহারাজা বীর বিক্রম মাণিক্য এই সম্পদকে লালনের মধ্য দিয়ে রাজ্যের জাতি জনজাতির মধ্যে সৌভ্রাতৃত্ব সৃষ্টি করেছিলেন। তিনিই একমাত্র রাজা যিনি রাজ্যে সংবিধান চালু করার মধ্য দিয়ে নিজের ক্ষমতা হ্রাস করতে চেয়েছিলেন। অনুষ্ঠানে তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী বলেন, ত্রিপুরার উন্নয়নে জাতি জনজাতিদের মধ্যে সৌভ্রাতৃত্ববোধ জাগরণে বীর বিক্রম কিশোর মাণিক্যের ভূমিকা ছিল অনন্য।
তিনি ছিলেন আধুনিক ত্রিপুরার রূপকার। তাঁর আদর্শ ও চিন্তাধারাকে পাথেয় করেই রাজ্যের উন্নয়নে বর্তমান সরকার কাজ করছে। মহারাজা অল্প বয়সে নিজের কর্মের মাধ্যমে যা সৃষ্টি করেছেন তার মাধ্যমে তিনি অমর হয়ে আছেন।
আমাদের সকলকে রাজন্য আমলের ইতিহাসকে বর্তমান প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে। বিভেদকামী শক্তি যাতে রাজ্যে আগামীদিনে সক্রিয় হতে না পারে তারজন্য মহারাজার দেখানো পথেই সরকার এবং জনগণকে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে এছাড়া উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুরনিগমের মেয়র দীপক মজুমদার, বিধানসভার প্রাক্তন অধ্যক্ষ তথা বিধায়ক রেবতী মোহন দাস। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের অধিকর্তা রতন বিশ্বাস।
পরে এই উপলক্ষে অনুষ্ঠান মঞ্চে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। আজকের এই অনুষ্ঠান। উপলক্ষে জাতি জনজাতি, যুব সম্প্রদায়ের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়।