লাগাতার আন্দোলনে সোনামুড়া অপহরণ কাণ্ডে গ্রেফতার দুই , উদয়পুরে উদ্ধার কিশোরী

স্টাফ রিপোর্টার, উদয়পুর/ সোনামুড়া, ২৭ জুলাই।। অনেক জল্পনা-কল্পনা পর দীর্ঘ সময় আন্দোলন করার পর অবশেষে বুধবার উদয়পুরের গর্জি থেকে অপহরণ কাণ্ডে জড়িত দু’জনকে আটক করা হয় এবং মেয়েকেও উদ্ধার করা হয়।

উল্লেখ্য গত রবিবার পুরো ফিল্মি কায়দায় এক নাবালিকা মেয়েকে অপহরণ করে নিয়ে গেল এক যুবক, ঘটনা সোনামুড়া থানা দিন মনারচক বলেরডেপা কালাপানিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের ৬ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় । জানা যায় সোনামুড়া থানা দিন বলেরডেফা মনারচক কালাপানিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের ৬ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মনির হোসেনের কন্যা দশম শ্রেণীতে পাঠরত।

গত রবিবার সকাল ছয়টা ত্রিশ মিনিটে বাড়ি থেকে বের হয়ে, প্রাইভেটের এর উদ্দেশ্যে মনারচক সংলগ্ন বলেরঢেপা এলাকায় আসে, তখন একই এলাকার বাসিন্দা আতিকুল ইসলামের ছেলে মাইনুদ্দিন ওরফে সোহাগ এবং তার সঙ্গে থাকা আরো কয়েকজন সাঙ্গোপাঙ্গ মিলে মেয়েটিকে জোর করে গাড়িতে তুলে অপহরণ করে নিয়ে যায়। জানা যায় মেয়েটির সঙ্গে আরও ৩ জন মেয়ে ছিল। অন্য মেয়ে তিনটি বোরকা পরা অবস্থায় ছিল , প্রথমে দুষ্কৃতীরা অন্য একটি মেয়ের হাত ধরে, ভাবছিল হয়তোবা এই মেয়েটি। কিন্তু মেয়েটি বলেন আপনারা যাকে নিতে এসেছেন আমি সে নই।

তখন মেয়েটি এমন অবস্থা বুঝতে পেরে দৌড়ে গিয়ে বলের ডেপার চৌমহনীর আবু তাহের মিয়ার দোকানে লুকিয়ে যায়। কিন্তু স্থানীয়দের কাছে মেয়েটিকে বাঁচানোর জন্য আরজি করেন। কিন্তু মেয়েটিকে বাঁচানোর জন্য কেউ এগিয়ে আসেননি । এক পর্যায়ে মেয়েটি ভয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন ।কিন্তু সেখানে গিয়ে সোহাগ মিয়ার বাবা সহ মেয়েটিকে জোর করে গাড়িতে তুলে দেয় বলে অভিযোগ।

জানা যায় গত কিছুদিন আগে আতিকুল ইসলাম এর পরিবার নাবালিকার পরিবারের কাছে বিয়ের সম্বন্ধ পাঠালে নাবালিকার পরিবার সেই সম্বন্ধ নাকোজ করে দেয়। এবং নাবালিকার পরিবার বলেন মেয়ের এখন বিয়ের সময় হয়নি, মেয়ে পড়াশোনা করবে এবং মেয়ে যেহেতু নাবালিকা তাই তারা এখন বিয়ে দেবে না। যার ফলে এই ঘটনাটি ঘটিয়েছেন । এই বিষয়ে মেয়ের পরিবার সোনামুড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অন্যদিকে বুধবার সোনামুড়া স্কুল ছাত্রী নাবালিকা অপহরণের ৭২ ঘন্টা পর আচমকা ফেসবুক লাইভে এসে নাবালিকা কন্যার এক বক্তব্যর জেরে গোটা মহকুমা জুড়ে চাঞ্চল্য বিরাজ করছে। এই বক্তব্যে নাবালিকা কন্যাটি দাবি করেন কন্যা কে কেউ জোর করে আনেনি ,সে নিজ ইচ্ছায় ছেলের সাথে এসেছে, সে আরো দাবি করেন ছেলে এবং ছেলের পরিবারের প্রতি যেন কেউ মামলা না করেন।

এদিকে এই ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই সোনামুড়া বাসি দাবি করছেন মেয়েকে এক প্রকার চাপে ফেলে এমন ভিডিও তৈরি করে ফেসবুকে পোস্ট করেন। তবে এখন পুলিশি তদন্তে আসল রহস্য বেরিয়ে আসবে বলে দাবি করছেন একাংশ রা।এ নিয়ে গোটা এলাকায় চাঞ্চল্য এবং আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *