স্টাফ রিপোর্টার, ধর্মনগর, ২৮ মে।। কাঞ্চনপুর গ্রাম উন্নয়ন দপ্তরের উপজাতি ছাত্র-ছাত্রীদের ছাত্রাবাস নির্মাণের নামে চলছে কোটি কোটি টাকার হরির লুট। কাঞ্চনপুর মহাকুমার অধীন বড়ছড়া হাই স্কুলের বয়েজ ও গার্লস ছাত্রাবাস নির্মাণের কাজ চলছে দুর্নীতি। কাঞ্চনপুর গ্রাম উন্নয়ন দপ্তরের অধীনে সমগ্র শিক্ষা ও উপজাতি কল্যাণ দপ্তর এর টাকায় এই উপজাতি ছাত্রাবাসগুলো নির্মাণ কাজ চলছে।
বিগত ২৮শে এপ্রিল ২০২২ইংরেজি তারিখে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব কাঞ্চনপুর মহাকুমার বড়ছড়া হাই স্কুলের বয়েজ ছাত্রাবাসের উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের ২৫ দিনের মাথায় বয়েজ ছাত্রাবাসের সীমানার বাউন্ডারি ওয়াল ভেঙ্গে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে যায়।
আনুমানিক দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই বড়ছড়া হাই স্কুল ছাত্রাবাস নির্মাণ করা হয়েছিল দপ্তরের জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার লিটন দাসের তত্ত্বাবধানে, বয়েজ ছাত্রাবাস নির্মাণের কাজ অতি নিম্নমানের করে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছেন লিটন দাস নামিও কাঞ্চনপুর গ্রাম উন্নয়ন দপ্তরের জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার, আর এই লক্ষ লক্ষ টাকা অবৈধভাবে কামানোর অংশীদারিত্ব পকেটস্থ করেছেন দপ্তরের চিফ ইঞ্জিনিয়ার এবং দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত বাস্তুকার।
এদিকে একই স্থানে অর্থাৎ কাঞ্চনপুর বড়ছড়া হাই স্কুলে চলছে গার্লস ছাত্রাবাস নির্মাণের কাজ কাঞ্চনপুর গ্রাম উন্নয়ন দপ্তরের অধীনে চলছে এই নির্মাণাধীন কাজ, বহি রাজ্যের ঠিকাদারি সংস্থা জুড়য়া রাম কনস্ট্রাকশন বরাত পায় এই ছাত্রাবাস নির্মাণের, শুরু থেকেই নির্মাণ কাজে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে দপ্তরের নিয়মবহির্ভূত রড সিমেন্ট কম দিয়ে মাটির নিচে পিলারের বেইস না দিয়ে নির্মাণ কাজ শুরু করে বিট লেভেল পর্যন্ত।
বিট লেবেলের উপরে কলাম ট্রেনে আরসিসি ছাদ এর ব্যবস্থা করে ফেলেছেন ঠিক সেই সময় এই গার্লস ছাত্রাবাস নির্মাণাধীন অবস্থায় গত কিছুদিন আগে নির্মাণের 60% কাজ ভেঙে পড়ে যায়। প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে চলছে এই ছাত্রাবাস নির্মাণের কাজ এই কাজে দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ার প্রথমে ছিলেন লিটন দাস পরবর্তী সময়ে লিটন দাস কে সরিয়ে কাজ দেওয়া হয় পার্থ দাস এর তত্ত্বাবধানে।
এদিকে স্কুলের এসএমসি কমিটি সদস্য আমাদের সংবাদ প্রতিনিধি সামনে নিম্নমানের কাজের প্রমাণ তথ্য তুলে দিয়ে বক্তব্যে বলেন এই নির্মাণকাজের প্রথম দিন থেকেই বরাত প্রাপ্ত ঠিকাদারি সংস্থা জুরা রাম কনস্ট্রাকশন দপ্তরের জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার, বাস্তুকার, সরকারি বাস্তুকার এদেরকে ম্যানেজ করে মোটা টাকার উৎকোচ এর মাধ্যমে নিম্নমানের কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
স্কুলের এসএমসি কমিটি সদস্যদের এই নিম্নমানের কাজ গোচরে আসতেই এসএমসি কমিটি কাজ বন্ধ করে দেন, পরবর্তী সময়ে দপ্তরকে মেনেজ করে রাতের অন্ধকারে এই ছাত্রাবাস নির্মাণে নিম্নমানের কাজ করিয়ে যাচ্ছিলেন জুরা রাম কনস্ট্রাকশন। এদিকে বড়ছড়া হাই স্কুলের বয়েজ ছাত্রাবাসের বাউন্ডারি দেওয়াল ভেঙে যাওয়া এবং নির্মাণাধীন গালস ছাত্রাবাসের নিম্নমানের কাজের ফলে ভেঙে যাওয়া কে কেন্দ্র করে দপ্তরের বাস্তুকার কে জিজ্ঞাসা করা হলে উনি প্রথমে নিম্নমানের কাজ হয়েছে বলে স্বীকার করতে নারাজ, পরবর্তী সময়ে অকপটে কাজে গাফিলতি হয়েছে বলে স্বীকারোক্তি দিয়েও পরবর্তী সময়ে শাক দিয়ে মাছ ঢাকতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন, আর উনাকে এ কাজে সম্পূর্ণরূপে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন দপ্তরের চিফ ইঞ্জিনিয়ার বলে স্কুলের এসএমসি কমিটি এবং এলাকাবাসী সূত্রের খবর।
এদিকে লক্ষনীয় বিষয় হচ্ছে কাঞ্চনপুর গ্রাম উন্নয়ন দপ্তরের জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার লিটন দাসের চাকরির বয়স আনুমানিক সাত-আট বছর হবে এই সাত-আট বছরের সময়সীমার মধ্যে লিটন দাসের কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি লক্ষ লক্ষ টাকার ব্যাঙ্ক ব্যাংক ব্যালেন্সের উৎসাহ নিয়ে এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে অসমর্থিত এলাকাবাসী সূত্রে খবর।
এদিকে কাঞ্চনপুর গ্রাম উন্নয়ন দপ্তরের উপজাতি ছাত্র-ছাত্রীদের ছাত্রাবাস নির্মাণে কোটি কোটি টাকার নয়ছয়ের বিষয়টি এবং এই নির্মাণাধীন ছাত্রাবাস কিভাবে ভেঙে যায় তার সঠিক তদন্ত করে দপ্তরের যে সমস্ত ইঞ্জিনিয়াররা জড়িত রয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে এলাকাবাসী থেকে।