যৌন পেশাকে আর বেআইনি বলা যাবে না

অনলাইন ডেস্ক, ২৭ মে।। ভারতের সর্বোচ্চ আদালত বৃহস্পতিবার এক রায়ে বলেছে, যৌন পেশাকে আর বেআইনি বলা যাবে না। রায়ে বলা হয়, বাকি পেশার মতো যৌন পেশাও একটি পেশা এবং যৌনকর্মীদেরও সমান অধিকার ও মর্যাদা রয়েছে। এই রায়ের মধ্য দিয়ে দেহ ব্যবসাকে আর পাঁচটা সাধারণ কাজের মতো ‘পেশা’ হিসাবে আইনগত স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

একইসঙ্গে যৌনকর্মীদের কাজে হস্তক্ষেপ বা তাদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ না করতেও পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছে ভারতের শীর্ষ আদালত।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, বৃহস্পতিবার বিচারপতি এল নাগেশ্বর রাওয়ের অধীনে তিন সদস্যের বেঞ্চ যৌন পেশা ও যৌনকর্মীদের সম্পর্কে মোট ছয়টি নির্দেশনা জারি করে। যৌনকর্মীদের অধিকার রক্ষায় এই নির্দেশনা জারি করা হয়।

বিচারপতিরা বলেন, ‘আইনের চোখে যৌনকর্মীরাও সমান নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার রাখে। যদি একজন যৌনকর্মী প্রাপ্তবয়স্ক হন এবং নিজের সম্মতিতেই যৌন পেশায় যুক্ত হন, তবে পুলিশ বিনা কারণে হস্তক্ষেপ করতে পারে না। যৌনকর্মীদের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারী ব্যবস্থাও গ্রহণ করা যাবে না’।

ভারতীয় সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে শীর্ষ আদালত আরও জানায়, দেশের সকল নাগরিকেরই মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন করার অধিকার রয়েছে। আর তাই যৌনপল্লীতে তল্লাশি অভিযান চালানোর সময় অকারণে যৌনকর্মীদের হেনস্থা, গ্রেপ্তার করা উচিত নয়। অবশ্য যৌন পেশাকে বৈধ বললেও যৌনপল্লী চালানো যে বেআইনি, সে কথাও মনে করিয়ে দেয় শীর্ষ আদালত।

এদিকে যৌনকর্মীদের মধ্যে যারা সন্তানের মা, তাদের জন্য বিশেষ পর্যবেক্ষণ রেখেছেন ভারতীয় আদালত। তিন বিচারকের বেঞ্চের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শুধুমাত্র যৌন পেশার সঙ্গে যুক্ত, এই যুক্তিতে সন্তানকে তার মায়ের কাছ থেকে সরিয়ে নেওয়া অনুচিত। বিশেষ কোনো কারণ ছাড়া সন্তানদের মায়ের কাছ থেকে সরানো যাবে না বলেই জানিয়েছে আদালত।

একইসঙ্গে যৌনকর্মীরা যদি কোনো অপরাধের অভিযোগ নিয়ে থানায় যান, তা গুরুত্ব সহকারে শোনা ও যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে কোনো যৌনকর্মী যদি শারীরিক নির্যাতন বা অন্য কোনও অপরাধের অভিযোগ আনেন, তবে দ্রুত শারীরিক পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। যৌনকর্মীদের পরিচয় গোপন রাখারও নির্দেশ দিয়েছে ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট।

এছাড়া পুরো এই বিষয়টিতে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারেরও মতামত জানতে চেয়েছেন আদালত। আগামী ২৭ জুলাই এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। সেই দিন কেন্দ্রীয় সরকারের মতামত শুনবেন শীর্ষ আদালত।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম বলছে, দেশের শীর্ষ আদালতের এই নতুন নির্দেশিকায় ভারতের প্রায় ৯ লাখ যৌনকর্মী উপকৃত হবেন। বস্তুত ভারতে দেহ ব্যবসা অবৈধ না হলেও পতিতালয় চালানো বা পতিতাবৃত্তিতে প্ররোচনা দেওয়া অপরাধ হিসাবে গণ্য করা হয়।

আর এই আইনের কারণেই বহু যৌনকর্মীকে সেবা দেওয়ার সময় হেনস্তার শিকার হতে হয়। ফলে শীর্ষ আদালতের নতুন এই গাইডলাইনে তারা কিছুটা স্বস্তি পাবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *