মানুষের টাকা আত্মসাৎ করে স্ত্রী এবং সন্তানদের রেখে বিদেশে পালিয়ে গেল দালাল

স্টাফ রিপোর্টার, সোনামুড়া, ২৫ মে।। স্ত্রী সহ দুটো শিশুকে রেখে বিদেশে পালিয়ে গেল কাবিল হোসেন নামে এক দালাল। এই কাবিল হোসেন মানুষ কে বিদেশে নিয়ে গিয়ে কাজ দেবে বলে অনেক লোকের কাছ থেকে টাকা আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগ। তার বাড়ি সোনামুড়া থানাধীন করালিয়ামোরা এলাকায়। যানাযায় তার বিরুদ্ধে সোনামুড়া থানায় জাল ভিসা দেওয়ার একটি মামলাও রয়েছে।গত কয়েকদিন পূর্ব থেকে এই দালাল কাবিল হোসেন তার স্ত্রী সহ স্ত্রীর বাপের বাড়ি লোকজনদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ তুলছেন এবং বদনাম করার চেষ্টা করছে সামাজিক মাধ্যমে ।

ঘটনার বিবরণে জানা যায় আজ থেকে প্রায় ১০ বছর পূর্বে সোনামুড়া শ্রীমন্তপুর এলাকার আতিকুল ইসলামের মেয়ে সালমা খাতুনের সঙ্গে সামাজিক রীতিনীতি অনুযায়ী বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই শুরু হয় স্ত্রী সালমার উপর নির্যাতন। টাকার জন্য স্ত্রীর উপর প্রতিনিয়ত শারীরিক নির্যাতন করতো কাবিল । এদিকে কাবিল হোসেন এর কোন রুজি-রোজগার ছিল না ।তখন সালমার বাপের বাড়ির লোকজন সহযোগিতা করে কাবিল কে পাসপোর্ট করে বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করে, যাতে করে তাদের মেয়ে এবং মেয়ের জামাই সংসার সুন্দরভাবে চালাতে পারে।

কিন্তু কাবিল দু-তিন মাস পর বিদেশ থেকে বিভিন্ন কুকর্ম করে চলে আসে। এরপর এখানে এসে মানুষকে বিদেশে পাঠাবার প্রলোভন দেখিয়ে অনেক টাকা আত্মসাৎ করে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে। কাবিল টাকা নেওয়ার পর যখন মানুষদেরকে বিদেশে নিতে পারছে না,তখন তারা কাবিল কে টাকার জন্য চাপ দেয় । তখন সে তার শ্বশুরবাড়ির লোকেদের দেখিয়ে দেয়। কারণ কাবিল কে তার বাড়ি থেকে নাকি বের করে দেয়া হয়েছিল। সে তখন শ্বশুরবাড়ির পরিচয়ে এলাকায় চলাফেরা করত। যখন শ্বশুরবাড়ির লোকেরা তার আসল চরিত্র জানতে পারে তখন তার বিরুদ্ধে সোনামুড়া থানায় এবং পরে সামাজিক বিচারের ডাক দেয় ।

সামাজিক বিচারের সময় কাবিল তার স্ত্রী এবং আট বছরের একটি শিশু পুত্র এবং চার বছরের একটি শিশু পুত্রকে রেখে পালিয়ে যায়। এরপর থেকেই পাওনাদাররা প্রতিনিয়ত কাবিলের স্ত্রীর বাপের বাড়িতে এসে ভিড় জমাচ্ছে। এ দিকে তারা তাদের সাধ্যমতো যতটুকু পেরেছিল মানুষের টাকা পরিশোধ করার চেষ্টা করেছিল । এদিকে পাওনাদাররা স্ত্রীর বাপের বাড়িতে প্রতিনিয়ত আসতে শুরু করেন। এদিকে স্ত্রী সালমা আর সহ্য করতে না পেরে ,স্বামীর টাকা পরিশোধ করার জন্য স্ত্রী সালমা চেন্নাই আসেন। চেন্নাই কাজ করে তার স্বামীর দেনা মেটাবার চেষ্টা করছেন।

কিন্তু এরই মধ্যে কাবিল মিয়া সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছে যে তার স্ত্রী সালমা তার বিভিন্ন টাকা পয়সা নিয়ে, অন্য পুরুষের সাথে পালিয়ে গিয়েছে এবং তার শ্বশুরবাড়ির লোকজনদের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন ধরনের বাজে মন্তব্য করছে সামাজিক মাধ্যমে । এ অবস্থায় তার স্ত্রী এবং তার বাবার বাড়ির লোকেরা সোনামুড়া থানায় বিষয়টি জানালে পুলিশ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে আশ্বস্ত করেন।

এদিকে তার স্ত্রী বলেন অনেক চেষ্টা করেছিলাম তার সাথে সংসার করার, কিন্তু এখন আর কোনো ইচ্ছে নেই এবং তার এই ধরনের কাজের জন্য তার শাস্তির দাবিও জানান স্ত্রী সালমা। এদিকে সালমার মা-বাবা জানান দুটি শিশু কে ফেলে এবং প্রচুর টাকা মানুষের কাছ থেকে আত্মসাৎ করে পালিয়ে গেছে তাদের মেয়ের জামাই। তাদের মেয়ের ভবিষ্যৎ শেষ এখন এই দুটো ছোট শিশুর ভবিষ্যৎ কি হবে তা নিয়ে তারা এখন মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন ।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *