স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা, ২৪ মে।। ত্রিপুরা উচ্চ আদালত ২০১৮ সালের একটি পি.আই.এল কে কেন্দ্র করে এপ্রিল মাসের ৫ তারিখ সুনির্দিষ্ট আদেশ জারি করেন। আদালতের আদেশ এবং ত্রিপুরা রিক্সা রেগুলেশন অ্যাক্ট ২০১৪ ও ত্রিপুরা রিক্সার রুলস ২০১৯ এর অধীনে আগরতলা শহরের প্যাডেল এবং ব্যাটারি চালিত রিক্সার জন্য রেজিস্ট্রেশন ও চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স বাধ্যতামূলক। গতকাল অর্থাৎ সোমবার আগরতলা পৌরনিগম কর্তৃপক্ষ ফাইল নম্বর F2(PN) /PRO/PUB/ANP/18 থেকে এই বিজ্ঞপ্তি জারি করে। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে বলা হয় যে, আগরতলা পৌরনিগম এলাকার মধ্যে যে সমস্ত প্যাডেল অথবা ব্যাটারিচালিত রিকশা বর্তমানে চলাচল করছে সেগুলোর রেজিস্ট্রেশন এবং চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স বাধ্যতামূলক।
যদি সঠিক নথিপত্র না থাকে তবে আগামী ১ জুন থেকে শহরের বুকে সেসব রিকশা চলাচল করতে পারবে না। পুরনিগম বিজ্ঞপ্তিতে এও বলেছে যে আগামী ৩০ তারিখের মধ্যে সরকারি ছুটির দিন বাদ দিয়ে সকাল ১০ টা থেকে বিকেল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত শহরের সিটি সেন্টারের সেন্ট্রাল জোন অফিস থেকে নির্ধারিত ফি দিয়ে নথিপত্র গ্রহণ করতে হবে। ভোটার আই কার্ড, আধার কার্ড, রেশন কার্ড দেখাতে হবে এবং ফটোকপি জমা দিতে হবে রিকশাচালক দের। শুধু তাই নয় অফিস থেকে তিনটি ফর্ম দেয়া হবে।
প্রথমটি রিকশাচালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স ফর্ম, দ্বিতীয়টি রিকশা রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট ফর্ম এবং তৃতীয়টি রিক্সা রেজিস্ট্রেশন ও ড্রাইভিং লাইসেন্স নবীকরন ফর্ম।যদিও এর আগেও একবার আগরতলা পৌরনিগম কর্তৃপক্ষ এমনি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল। কিন্তু সেগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। তবে এইবার মাত্র সাত দিন সময় এর মধ্যে কিভাবে এত বড় কাজ সম্পন্ন করবে পৌরনিগম? পৌরনিগমের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী যে পদ্ধতি এবং নিয়মাবলীর কথা বলা হয়েছে তা মেনে শহরের হাজারো রিকশাচালকদের একত্রে জড়ো করা এবং জন প্রতি তিনটি ফর্ম গ্রহণ করে তার বিনিময়ে সরকারি নথি প্রদান একেবারেই সহজসাধ্য কার্য নয়। এদিকে রাজ্যের সচেতন মহলের অভিমত পৌরনিগম ব্যাটারিচালিত অথবা ব্যাটারি ছাড়া দুই ধরনের রিকশাকে বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী রেজিস্ট্রেশন এবং লাইসেন্স দিতে চলেছে।
প্যাডেল রিক্সায় অতিরিক্তভাবে ব্যাটারি এবং মটর লাগানো কোনোভাবেই বিজ্ঞানসম্মত নয়। এই বিষয়ে বহু আগে থেকেই উচ্চ আদালতে বিভিন্ন মামলা রয়েছে। ব্যাটারী চালিত রিকশা গুলো চলাফেরায় ঝুঁকিপূর্ণ তা তুলে ধরা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে উচ্চ আদালত ব্যাটারি ও মোটর এর বিষয়টিকে রিকশার ক্ষেত্রে ছাড় দিলেও সেটি নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই। কিন্তু শহরজুড়ে বিগত বাম আমল থেকেই ব্যাটারি এবং মোটর চালিত রিক্সা গুলির চলাফেরা করছে। কিন্তু সচেতন মহলের প্রশ্ন যে পৌরনিগমের এই বিজ্ঞপ্তির জেরে তবে কি রাজ্যে এক জুন থেকে রিক্সার জোর অভাব দেখা দিতে চলেছে? সেটা সময়ই বলে দিতে পারবে।