ঝড়-বৃষ্টিতে ভেঙ্গে পরল বেশ কিছু খুঁটি, লন্ডভন্ড কল্যাণপুরে বিদ্যুৎ পরিষেবা

স্টাফ রিপোর্টার, কল্যাণপুর, ২১ মে।। ঝড় বৃষ্টিতে লণ্ডভণ্ড কল্যাণপুরের বিদ্যুৎ পরিষেবা। প্রায় বারো ঘন্টা ধরে বিদ্যুৎ হীন কল্যাণপুর। ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অনুন্য ১৭ টি বিদ্যুৎ পরিবাহী খুটি। শনিবার ভেঙে পড়েছে আরও পাঁচটি খুটি। বিশাল বিপর্যয় দেখা দিয়েছে কল্যাণপুরে।

 

কল্যাণপুর বিদ্যুৎ সাব ডিভিশন এর সিনিয়র ম্যানেজার নীহার রঞ্জন দাস ঠিকেদারদের নিয়ে দিনরাত কাজ করেও সব জায়গায় বিদ্যুৎ পরিষেবা চালু করতে পারেন নি। শুক্রবার সন্ধ্যের সময় কল্যাণপুর মূল এলাকায় কিছুক্ষনের জন্য বিদ্যুৎ এসেছিলো। কিন্তু তারপর সারারাত বিদ্যুৎ গেছে আর আসছে। শনিবারের ঝড়ে নুতন করে ৫ টি খুটি ভেঙেছে। কল্যাণপুর লোকনাথ মন্দির এর সামনে একটি গাছ ভেঙে পড়েছে পরিবাহীর উপর। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তোতাবাড়ি।

 

এদিকে পশ্চিম ঘিলাতলীতে একটি ট্রান্সফর্মার সহ খুটি ধানের খেতে পরে গেছে। ফলে আজ তিন দিন ধরে ঘিলাতলী বিদ্যুৎ হীন। মুশকিল হচ্ছে ঠিকেদার দের নিয়ে। তারাই মূলত ট্রান্সফরমার ঠিক করা, জঙ্গল সাফাই করা এবং পরিবাহী সারাই করার কাজ করেন। কিন্তু তাদের অভিযোগ গত ২০১৮ সাল থেকে তারা তাদের বকেয়া বিল পাচ্ছে না। অনেক বার উচ্চপদস্থ আধিকারিক দের কাছে দরবার করেও আজ অব্দি কোন লাভ হয় নি। তাই নিগম তাদের কাজ করতে জোড় করতে পারছে না। ঠিকেদার দের বক্তব্য হলো পকেটে টাকা না থাকলে তারা শ্রমিক আমদানি কি করে করবেন। শনিবার আরও পাঁচটি খুটি ভূপাতিত হওয়ার কারণে নিগম আরও বেকায়দায় পরে যায়।

 

যদিও কল্যাণপুরের ঠিকেদাররা বিল না পেয়েও মানবিকতার খাতিরে বৃহস্পতিবার থেকেই ময়দানে নেমেছেন। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে বর্ষা এখনও তেমন ভাবে আসে নি। ঠিকেদাররা যদি তাদের প্রাপ্য অবিলম্বে না পান তবে আসন্ন বর্ষায় কল্যাণপুর বাসীকে যে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হবে তা বলা বাহুল্য মাত্র।

 

কল্যাণপুরে মোট সাতটি ফিডার রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রবলেম আমপুরা এবং কমলনগর ফিডার নিয়ে। কল্যাণপুর ফিডারে এই বিদ্যুৎ আসে তো এই চলে যায়। শুক্রবার রাত থেকেই এমন হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় পানীয় জল পরিষেবাও বন্ধ। পানীয় জলের অভাবে মানুষ হা পিত্যেশ করছেন।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *