অনলাইন ডেস্ক, ১৪ মে।। লিভার বা যকৃৎ মানবদেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। দেহের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে লিভার। লিভার যেকোনো অসুবিধায় বা সমস্যায় নিজেকে পুনর্গঠন করতে সক্ষম। তা সত্ত্বেও লিভারের সমস্যা দিন দিন অনেক প্রকট হচ্ছে।
আজকাল ফুডহ্যাবিট এবং লাইফস্টাইলের পরিবর্তনে সুস্থ থাকাও কঠিন হয়ে যাচ্ছে। লিভারের সুস্থতায় আমাদের কী করতে হবে –
লিভারের কাজ
খাদ্যের রাসায়নিক পরিবর্তনের মাধ্যমে পুষ্টিতে পরিবর্তন করা যা আমাদের শরীর সুস্থ থাকতে প্রয়োজন।
খাবার থেকে পুষ্টি সঞ্চয় করা -এ কারণে লিভারকে স্টোর হাউজও বলা হয়।
রক্তের বর্জ্র উপাদান দেহ থেকে নিঃসরণ করা যা পায়খানা ও প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করে দেয়।
বিভিন্ন ওষুধ, অ্যালকোহল ভেঙে ফেলে।
বিভিন্ন এনজাইম এবং পিত্তরস উৎপাদন করে যা খাদ্যদ্রব্য হজমে সাহায্য করে।
রোগ প্রতিরোধের জন্য শরীরকে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে ভূমিকা রাখে।
সুস্থতায় করণীয়
ভালো থাকতে স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখতে হবে। অতিরিক্ত ওজনে লিভারে ফ্যাট জমে গিয়ে ফ্যাটি লিভার হওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়ে দেয়। যা লিভারের রোগের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল রূপগুলোর মধ্যে একটি। সবসময় সুষম খাবার খেতে হবে।
উচ্চ ক্যালরিযুক্ত খাবার, স্যাচুরেটেড ফ্যাট, রিফাইন্ড কার্ব অর্থাৎ সাদা রুটি, সাদা ভাত, রেগুলার পাস্তা এবং চিনি বাদ দেওয়া। কাঁচা বা কম রান্না করা শেলফিশ বর্জন করা।
প্রতিদিনের খাবারে উচ্চ খাদ্য আঁশযুক্ত খাবার হিসেবে মৌসুমি ফল ও সবজি, হোলগ্রেইন শস্য নির্বাচন করুন। লিভারের জন্য উপকারী গাঢ় সবুজ শাক-সবজি রঙিন ফল যেমন কমলা, বীট, গাজর ।
ডিপ-ফ্রাই খাবার পুরোপুরি বাদ দিন। কম চর্বিযুক্ত মাংস, কম ননিযুক্ত দুধ খাওয়া ভালো। অসম্পৃক্ত চর্বির উৎস হিসেবে বাদাম, বিভিন্ন বীজ এবং মাছ খাওয়ার চেষ্টা করুন। মানুষের সুস্থতার অপরিহার্য উপাদান পানি। পানি সমতা বজায় রাখতে কমপক্ষে বর্তমান আবহাওয়ায় ১০-১২ গ্লাস পানি, জুস, স্যুপ খাওয়া প্রয়োজন। প্রতিদিন অন্তত ২০-৩০ মিনিট নিয়মিত ব্যায়াম বা হাঁটতে হবে। এটি জ্বালানির জন্য ট্রাইগ্লিসারাইড ব্যবহার করে, ফলে লিভারে চর্বি জমতে বাঁধা প্রদান করে। যেকোনো ধরনে টক্সিন এড়িয়ে চলুন। কারণ টক্সিন লিভারের কোষকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। প্রতিনিয়ত দেহে জমে যাওয়া বিভিন্ন টক্সিন উপাদান নিঃসরণে : সরণে দম চর্চা করা, আদা জ্বাল দেওয়া পানি খাওয়া, লেবু পানি পান করা উচিত।
কীটনাশক, অ্যারোসল বা রাসায়নিক পদার্থগুলোর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ কমিয়ে দিন। যেমন অ্যারোসল ব্যবহার করলে খেয়াল করুন যেন সেখানে বায়ু চলাচলের সুবিধা থাকে। পাশাপাশি মাস্ক ব্যবহার করুন। ধূমপান ও অ্যালকোহল থেকে দূরে থাকুন।
ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি আইটেম শেয়ার করা থেকে বিরত থাকুন। যেমন রেজার, টুথব্রাশ, আন্ডার গার্মেন্টস ইত্যাদি। বাথরুম ব্যবহারের পর সবসময় হাত ভালো করে ধুয়ে নিন। এমনকি বাচ্চা বড়দের ডায়াপার পরিবর্তন করে দেওয়ার পরও হাত ধুয়ে নিন।
এছাড়া খাবার তৈরি বা খাওয়ার আগে ভালো করে হাত ধুয়ে নিন। অতিরিক্ত ভিটামিন বা মিনারেলসযুক্ত সাপ্লিমেন্ট খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। সর্বোপরি পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের জন্য রাতের ঘুম খুব জরুরি। ভালো পুষ্টি এবং একটি স্বাস্থ্যকর জীবনধারা এই কঠোর পরিশ্রমী অঙ্গকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে।