স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা, ১১ মে।। প্রথমবারের মত রাজ্যে সূচনা হওয়া বিভিন্ন জটিল রোগের চিকিৎসা সহ জেলা ও মহকুমা স্তর পর্যন্ত অত্যাধুনিক স্বাস্থ্য পরিষেবা ও পরিকাঠামোগত বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে স্বাস্থ্য সুরক্ষা সুনিশ্চিত হচ্ছে। রাজ্যের বাইরে গিয়ে চিকিৎসার বদলে, বর্তমানে ত্রিপুরাতেই অধিকাংশ উন্নত চিকিৎসার ফলশ্রুতিতে রেফার সংখ্যায় হ্রাস, চিকিৎসা ব্যায় লাঘব সম্ভবপর হচ্ছে। ফলে, বাণিজ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে, বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালের রাজ্যে বিজ্ঞাপনের প্রবণতাও হ্রাস পেয়েছে। আজ বিবেকানন্দ বিচার মঞ্চ এবং নার্সিং স্টাফ আই. জি.এম হাসপাতালের যৌথ ব্যবস্থাপনায় ‘ জাতীয় নার্সিং সপ্তাহ – ২০২২ ও আন্তর্জাতিক নার্সেস দিবস উপলক্ষ্যে মেগা রক্তদান শিবিরে অংশগ্রহণ করে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব একথা বলেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমার দৃষ্টিতে ত্রিপুরার সমস্ত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মীরাই নিজ নিজ ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠ। রাজ্যের স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে সংযোজিত প্রতিটি সাফল্য পালকের অন্যতম কৃতিত্ব তাঁদের। বিভিন্ন রোগ-ব্যাধি নিয়ে চিকিৎসার সুযোগ গ্রহণ করতে আসা রোগীদের মানসিক অবস্থা যথার্থ অনুধাবনের দ্বারা, হাসপাতালে প্রবেশের প্রাথমিক লগ্ন থেকেই, নিরাপত্তা কর্মী, নার্স সহ অন্যান্য স্বাস্থ্য কর্মীদের, মনোবল বর্ধক ও আপ্যায়নসুলভ ইতিবাচক কথোপকথন, সুস্থতার জন্য এক আত্মবিশ্বাস ও মানসিক শক্তি প্রদানে সহায়ক। রোগীর পরিজন ও স্বাস্থ্য কর্মীদের পরিস্থিগত পারস্পরিক আন্তরিকতা ও বোঝাপড়া, আরও উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদানে সহায়ক। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মহিলা বা পুরুষ উভয় নার্সদের রোগীদের প্রতি মাতৃসুলভ ব্যবহার করতে হবে। হাসপাতালে প্রবেশের সময় দাড়োয়ান থেকে শুরু করে যিনি রোগীকে ভিতরে নিয়ে যাবেন তিনি এবং পরবর্তীতে নার্সদের আচরন ও সদব্যবহার ই রোগী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে করতে হবে। আমি চাই কোনো একদিন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাঁর মন কি বাত অনুষ্ঠানে বলুক যে ত্রিপুরার নার্সরা দেশের মধ্যে সবচেয়ে ভালো কাজ করে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আহ্বান দেশ গঠনের কাজে সমাজের সকল শ্রেণীর মানুষ অংশিদারিত্ব গ্রহণ করুক। এখন সেবামূলক মনোবৃত্তি নিয়ে ত্রিপুরার যুবসমাজ রক্তদানের মতো মহৎ কাজে এগিয়ে আসছে। তিনি বলেন, আমি নিশ্চিত মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অনুপ্রেরণায় আমাদের যুব সমাজ সঠিক পথে এগিয়ে চলছে। আজ আই. জি.এম হাসপাতালে মেগা রক্তদান শিবিরে নার্সিং পাঠরতা ছাত্রীদের প্রথমবার রক্তদানের মহানুভূতি লাভ করতে দেখে অত্যন্ত খুশি হলাম । আমি তাঁদের উজ্জ্বল ভবিষ্যত কামনা করি।