চা বাগান শ্রমিকদের আর্থসামাজিক মানোন্নয়নে ৮৫ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে : মুখ্যমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার, কমলপুর, ৭ মে।। জনগণের জীবনের মানোন্নয়ন সরকারের প্রধান অগ্রাধিকারের ক্ষেত্র। এই কাজ করতে যে হৃদয়ের দরকার হয় তা সরকারের আছে বলেই গ্রাম থেকে শহর সর্বত্র ঘর, বিদ্যুৎ সংযোগ, পানীয়জলের সংযোগ সহ অন্যান্য পরিষেবা দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছানোর কাজ করে চলেছে সরকার। আজ কমলপুরের মহাবীর চা বাগান এসবি স্কুলের মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব। কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের জনকল্যাণমুখী বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের সাথে এক পারস্পরিক মতবিনিময় সভায় এদিন বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শ্রীদেব উপস্থিত চা বাগান শ্রমিকদের কাছে মুখ্যমন্ত্রী চা বাগান শ্রমিক কল্যাণ প্রকল্পের উদ্দেশ্য বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন যে, বহুদিনের অবহেলিত চা বাগান শ্রমিকদের আর্থসামাজিক মানোন্নয়নে সরকার ৮৫ কোটি টাকার এই প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এর সাহায্যে রাজ্যের চা বাগান শ্রমিকদের পরিবারগুলোকে ২২টি বিষয়ে বিভিন্নভাবে আর্থিক সহায়তা করা হবে। এছাড়া, যেসব চা বাগানগুলি মৃত বা অপেক্ষাকৃত দুর্বল সেই বাগানগুলিকে চিহ্নিত করে শ্রমিকদের নামে লিজ দেওয়া হবে এবং ব্যাংক লোনের মাধ্যমে সহায়তা করা হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন যে, ধলাই জেলায় ৩৮,২৫০ জন কৃষক পিএম কিষাণের মাধ্যমে সুবিধা পাচ্ছেন। এতে প্রতিবছর এই কৃষকদের ব্যাংক একাউন্টে ৬,০০০ টাকা করে দেওয়া হচ্ছে। মোট ৬৮,২৪,০০০ টাকা এখন পর্যন্ত প্রদান করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সুযোগ্য নেতৃত্বে এই প্রকল্পের বাস্তবায়নে রাজ্য সরকার ধলাই জেলাতেও সাফল্য পেয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, কমলপুরের দুর্গাচৌমুহনী ও সালেমা ব্লকেও যথাক্রমে ৫.৯৪০ জন এবং ২,৪৪৫ জন কৃষক এই পিএম কিষাণ প্রকল্পে সুবিধা পাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা প্রকল্পের বাস্তবায়ন সম্পর্কে বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, চার বছরে দুই লক্ষ আটাশ হাজার ঘরের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে যা অভূতপূর্ব সাফল্য। তিনি বলেন, গত সেপ্টেম্বরে এক সাথে আরও ১,৫৯,০০০টি ঘরের অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার এবং চার বছরে পিছিয়েপড়া ধলাই জেলাতে নির্মাণ হয়েছে ২৩,৪০২টি ঘর। মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন যে, ভিশন ডকুমেন্টের বাস্তবায়নে সব রকমের সামাজিক ভাতা ২,০০০ টাকা করে করা হবে এবং আগামী দুর্গাপূজার সময় থেকেই তা কার্যকরী হবে। তিনি বলেন, সরকার পরিত পানীয়জলের পরিষেবা প্রদানে জনজীবন মিশনের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি সংযোগের কাজ করছে। এই ক্ষেত্রে ৫৫ শতাংশ কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গেছে।এদিনের অনুষ্ঠানে শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের মন্ত্রী মনোজ কান্তি দেব বলেন, জনজাতিদের উন্নয়নে সরকার অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করেছে। রাজ্যে আইনের শাসন জারি হয়েছে। এই কারণে দোষীদের বিচারের মাধ্যমে উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। এদিনের অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সচিব ডঃ পি কে গোয়েল। উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক পরিমল দেববর্মা ও ত্রিপুরা চা উন্নয়ন নিগমের চেয়ারম্যান সন্তোষ সাহা। মুখ্যমন্ত্রী অনুষ্ঠানে চা বাগান শ্রমিকদের হাতে বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা তুলে দেন। মাঠে আয়োজিত মতবিনিময় সভার শেষে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব ৫ জন সুবিধাভোগীদের বাড়ি পরিদর্শন করেন। তাদের সাথে মতবিনিময় করেন, প্রকল্পের বাস্তবায়ন প্রত্যক্ষ করেন। এছাড়াও একটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে যান, বাচ্চা ও মায়েদের সঙ্গে কথা বলেন। একটি শিশুর অন্নপ্রাশনেও অংশ নেন। মুখ্যমন্ত্রী শিশু ও তার মাকে শুভেচ্ছা জানান।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *