অনলাইন ডেস্ক,৩০ এপ্রিল।। যুক্তরাষ্ট্র এবং পোল্যান্ড ইউক্রেনের পশ্চিমাঞ্চলে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চক্রান্ত করছে বলে অভিযোগ করেছেন রাশিয়ার ‘ফরেইন ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস’ (এসভিআর)- এর প্রধান সের্গেই নারিশকিন।
তবে পোল্যান্ড এ অভিযোগ ‘গুজব’ বলে উল্লেখ করে উড়িয়ে দিয়ে বলেছে, কিয়েভের সমর্থকদের মধ্যে অবিশ্বাস তৈরির লক্ষ্যে এমন অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার সের্গেই নারিশকিন অপ্রকাশিত গোয়েন্দা তথ্যের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, এতে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও এর ন্যাটো মিত্রদেশ পোল্যান্ড পশ্চিম ইউক্রেনের কিছু অংশে পোলিশ নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠার ষড়যন্ত্র করছে।
এই অভিযোগের মধ্য দিয়ে পশ্চিম এবং রাশিয়ার মধ্যে ইউক্রেনকে ভাগ করতে বাধ্য হওয়ার মধ্য দিয়ে যুদ্ধ শেষ হতে পারে বলে একরকম স্পষ্ট ইঙ্গিতই দিল রাশিয়া।
এসভিআর এর প্রকাশিত বিরল এক বিবৃতিতে নারিশকিন আরও বলেছেন, রাশিয়ার ফরেইন ইন্টেলিজেন্স সার্ভিসের পাওয়া গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, ওয়াশিংটন ও ওয়ারশ ইউক্রেনে ইতোপূর্বের পোল্যান্ড শাসিত অঞ্চলে পাকাপোক্ত সামরিক ও রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে।
অতীতের বিভিন্ন সময় পোল্যান্ড এমন কিছু ভূখণ্ড শাসন করেছে যা বর্তমানে ইউক্রেনের অংশ। অঞ্চলটি এখন পশ্চিম ইউক্রেন হিসেবে পরিচিত; এ অঞ্চলের মধ্যে আছে লিভিভ নগরীও। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষে পশ্চিম ইউক্রেনের এই অঞ্চলটি তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে মিশে গিয়েছিল।
এসভিআর প্রধানের দাবি, এ মুহূর্তে একটি পরিকল্পনা নিয়ে পোল্যান্ডের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এ পরিকল্পনার আওতায় ন্যাটোর ম্যান্ডেট ছাড়াই পোল্যান্ডের ‘শান্তিরক্ষী বাহিনী’ পশ্চিম ইউক্রেনের কিছু অংশে প্রবেশ করবে; সেখানে তাদের রুশ বাহিনীর সঙ্গে সংঘাতে জড়ানোর সম্ভাবনা কম।
১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর সোভিয়েত আমলের কেজিবির বিদেশে গুপ্তচরবৃত্তির বেশির ভাগ দায়িত্ব পেয়েছে এসভিআর। তারা তাদের সর্বশেষ এই অভিযোগের পক্ষে কোনও প্রমাণ প্রকাশ করেনি।
পোল্যান্ডের স্পেশাল সার্ভিসেস কোঅর্ডিনেটর-এর মুখপাত্র স্ট্যানিস্ল জারিন ‘এসভিআর’ এর অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, ‘বেশ কয়েক বছর ধরে পশ্চিম ইউক্রেনে পোল্যান্ডের আক্রমণের পরিকল্পনা করার মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে’।
রাশিয়ার চলমান আগ্রাসনে ইউক্রেনকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন দিয়ে আসছে পোল্যান্ড। সীমান্ত দিয়ে তারা ইউক্রেনে অস্ত্র পাঠাচ্ছে এবং প্রায় ৩০ লাখ ইউক্রেনীয় শরণার্থীকে আশ্রয়ও দিয়েছে পোল্যান্ড।
রাশিয়ার একজন জ্যোষ্ঠ আইনপ্রণেতা ও ফেডারেশন কাউন্সিলের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির ডেপুটি চেয়ার সিনেটর আন্দ্রেই ক্লিমোভও বৃহস্পতিবার বলেছেন, ইউক্রেনের একাংশে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছে পোল্যান্ড। তবে তিনিও তার এ দাবির পক্ষে কোনও প্রমাণ দেননি।
ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে আর্থিক লাভ খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্র
রাশিয়ার নিম্ন কক্ষের স্পিকার ভায়াচেসলাভ ভোলোদিন দাবি করেছেন, ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে লাভ খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে ইউক্রেনকে ঋণের জালে জর্জরিত করছে। যে ঋণ ইউক্রেনের পরবর্তী প্রজন্মকে শোধ করে যেতে হবে।
তার দাবি এখন যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে সহায়তা দিচ্ছে। কিন্তু পরবর্তীতে তা আদায় করে নেবে।
এ ব্যাপারে ভায়াচেসলাভ ভোলোদিন বলেন, লেন্ড-লিস হলো একটি পণ্য সংক্রান্ত লোন। এটি সুলভ নয়। যুক্তরাষ্ট্র যত অস্ত্র, সরঞ্জাম ও খাবার দেবে তার দাম ইউক্রেনের কয়েকটি পরবর্তী প্রজন্মকে শোধ করে যেতে হবে।
নিম্ন কক্ষের স্পিকার ভায়াচেসলাভ ভোলোদিন আরও বলেন, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদমির জেলেনস্কি ইউক্রেনকে একটি ঋণের কূপের ভেতর নিয়ে যাচ্ছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন গত বৃহস্পতিবার ইউক্রেনকে সহায়তা করার জন্য কংগ্রেসের কাছে আরও ৩৩ বিলিয়ন ডলার চেয়েছেন। এই ৩৩ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে ২০ বিলিয়ন ডলার চেয়েছেন শুধুমাত্র সামরিক খাতে খরচ করার জন্য।