স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা, ৭ এপ্রিল।। মানসিক দিক দিয়ে সমাজের সবচেয়ে সুন্দরতম ব্যক্তিরা হলেন দিব্যাঙ্গজনেরা। তাদের সান্নিধ্যে সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি হয়। আজ শহিদ ভগৎ সিং যুব আবাসে দিব্যাঙ্গজনদের জন্য আয়োজিত জাতীয় স্বাস্থ্য উৎসবে উপস্থিত হয়ে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব। অনুষ্ঠানের শুরুতে দিব্যাঙ্গন শিশুরা মুখ্যমন্ত্রী সহ অন্যান্য অতিথিদের সামনে যোগা প্রদর্শন করে। এরপর মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব সাদা বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন।
উল্লেখ্য, আজাদি কা অমৃত মহোৎসব উপলক্ষে স্পেশাল অলিম্পিকস ভারতের ত্রিপুরা শাখা এবং অভয় মিশনের উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী দিব্যাঙ্গন ছেলেমেয়েদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয় এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার বিভিন্ন সামগ্রী, জুতা ইত্যাদি দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম ত্রিপুরা জিলা পরিষদের সভাধিপতি অন্তরা দেব সরকার, আগরতলা পুরনিগমের মেয়র দীপক মজুমদার, সেন্সাস অপারেশনের অধিকর্তা প্রদীপ কুমার চক্রবর্তী স্পেশাল অলিম্পিকস ভারতের ত্রিপুরা শাখার সভাপতি প্রবীর কুমার নাগ, অভয় মিশনের সভাপতি নির্মল দেব ও সম্পাদক সুস্মিতা দে সহ দিব্যাগজন ও তাদের অভিভাবকগণ।
অনুষ্ঠান উপলক্ষে দিব্যাঙ্গজন ও তাদের অভিভাবকদের নিয়ে ভগৎ সিং যুব আবাসের মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব বলেন, সমাজের সবচেয়ে দুর্বল ব্যক্তির কাছে সরকারি সকল সুবিধা পৌঁছে দেওয়াই রাজ্য সরকারের কর্তব্য। দিব্যাঙ্গজনেরা মানবিকতায় সমৃদ্ধ। কিন্তু পূর্বে এই ধরনের ছেলেমেয়েদের বিকলাঙ্গ বলে চিহ্নিত করা হতো। যা তাদের এবং তাদের পরিবারের কাছে অপমানসূচক ছিল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কেন্দ্রে শাসন ক্ষমতায় আসার পরই সেই নাম পরিবর্তন করে দিব্যাঙ্গজন করা হয়েছে। এর অর্থ বিশেষ কিছু করার জন্যই যাদের জন্ম। কারণ প্রধানমন্ত্রী মনে করেন ঈশ্বরের সৃষ্টি কখনোই অপাংক্তেয় হতে পারে না। মুখ্যমন্ত্রী দিব্যাঙ্গজনদের অভিভাবকদের হতাশ না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, সমাজে যাদের কাছে সবকিছু রয়েছে তারা অনেক কিছুই করতে পারেন না। নাম, যশ, সম্পত্তি, বংশ পরম্পরা ইত্যাদি একজন ভালো মানুষ গড়ার ক্ষেত্রে কোনও অবদান রাখে না।
তিনি বলেন, বর্তমানে দিব্যাঙ্গজনেরা অলিম্পিক খেলা থেকে শুরু করে এভারেস্টের চূড়ায় পর্যন্ত পৌঁছে যাচ্ছে। অর্থাৎ কর্মেই মানুষের পরিচয়। তিনি অভিভাবকদের তাদের সন্তানের ভালো গুণগুলিকে চিহ্নিত করে তাদের সমাজে আরও এগিয়ে যাওয়ার পথ প্রশস্ত করার জন্য আহ্বান জানান।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান যুব সমাজের মধ্যে এইডস রোগ, নেশায় আসক্ত হওয়ার প্রবণতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। অনেক ক্ষেত্রে সুস্থ সবল যুব সমাজও এইসব কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ছে। বর্তমান রাজ্য সরকার মনে প্রাণে ত্রিপুরাকে নেশামুক্ত করার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
পরে মুখ্যমন্ত্রী সহ অন্যান্য অতিথিগণ যুব আবাসে আয়োজিত স্বাস্থ্য উৎসব পরিদর্শন করেন। সেই সময় তিনি বিভিন্ন দিব্যাঙ্গজনদের সাথে মতবিনিময় করেন এবং সেলফি তোলেন। অনুষ্ঠানে ভট্টপুকুরের কালীটিলার দিব্যাঙ্গন শুক্লা সূত্রধর মুখ্যমন্ত্রীকে একটি গান গেয়েও শোনায়।