ভোজ্য তেলের অতিরিক্ত দাম রাখছে ব্যবসায়ীরা, অভিযোগের সত্যতা পেল প্রশাসন

স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা, ২৯ মার্চ।। আগরতলা শহরের বাজারগুলোতে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী মারমুখী হয়ে উঠেছে। নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী মূল্য নিজেরাই মনগড়া বৃদ্ধি করে চলেছে একাংশ ব্যবসায়ী। যুদ্ধে অজুহাত দেখিয়ে ক্রেতাদের পকেট কেটে চলেছে তারা।

দীর্ঘ এক মাস ধরে এই ধরনের অনিয়ম রাজ্যের বিভিন্ন বাজারগুলিতে চলে আসলেও প্রশাসন ছিল সম্পূর্ণ নির্বিকার। অবশেষে মঙ্গলবার বাজারগুলিতে অভিযান চালায় প্রশাসন। এদিন বটতলা বাজার এবং মহারাজগঞ্জ বাজারে ফরচুন তেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালান অতিরিক্ত মহাকুমা শাসক বিনয় ভূষণ দাস। পাশাপাশি দুটি দোকানে অতিরিক্ত মাত্রায় তেলের দাম বৃদ্ধির কারনে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে  সদরের অতিরিক্ত মহকুমা শাসক।

তিনি জানান প্রতিনিয়ত নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর বাজার দর পর্যালোচনা করে দেখা হয়। একই সঙ্গে চলে এনফোর্সমেন্ট। এর মধ্যে অভিযোগ এসেছে ফরচুন তেলের বাজার মূল্য সঠিক ভাবে রাখা হচ্ছে না। পুরনো প্যাকেটে ১৫০ টাকা দাম থাকলেও তা বিক্রি করা হচ্ছে ১৯০ থেকে ২১০ টাকা দরে। প্যাকেটের মূল্য অনুযায়ী টাকার নথি ভুক্ত করা হচ্ছে না। বটতলা এলাকায় একটি দোকানে ক্রেতা হিসাবে গিয়ে এই গরমিল পাওয়া গেছে। প্যাকেটের গায়ে ১৫৫ টাকা থাকলেও দোকানদার দাম চান ১৯০ টাকা। ১০ টাকা কম রাখার আবেদন জানানোর পর মূল্য কম রাখা হয়নি। সেই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে অফিসে গিয়ে পরবর্তী সময় দেখা করার জন্য বলা হয়েছে।

এছাড়াও অবৈধ প্ল্যাস্টিকের ক্যারিব্যাগের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হচ্ছে। মহারাজগঞ্জ বাজারে এই অসামঞ্জস্যতা মেলায় দোকান বন্ধ রাখা হচ্ছে। সঠিক কাজ পত্র দেখাতে পারলে ফের দোকান খোলার অনুমতি দেওয়া হবে। এখনো পর্যন্ত দুটি দোকানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান সদরের অতিরিক্ত মহকুমা শাসক। যারা অতিরিক্ত মূল্য রাখছেন তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন।

তবে এখন দেখার বিষয় মহকুমা প্রশাসন কি ব্যবস্থা গ্রহণ করে সেইসব অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এদিন বাজারে বি পি এল ভুক্ত বাড়তি রেশনের চাল বিক্রি করতে আসে এক রিকশা চালক। পরবর্তী সময় প্রশাসনিক কর্মীরা সেই ব্যক্তিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পারে সরকার প্রদত্ত এত পরিমাণে চাল পরিবারে খাওয়ার কেউ নেই। তাই তিনি বিক্রি করতে এসেছেন।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *