স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা, ২৮ মার্চ।। সময়ের কাজ সময়ে শেষ করতে হবে। জনগণের স্বার্থে এবং সুবিধার জন্য যে কাজগুলি বিশেষ জরুরী সেই কাজগুলি আগে করতে হবে। পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের কনফারেন্স হলে আয়োজিত পশ্চিম ত্রিপুরা জিলা পরিষদের সাধারন সভায় আজ কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহরায় একথা বলেন।
জিলা পরিষদের সভাধিপতি অন্তরা সরকার দেব এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক কৃষ্ণধন দাস, পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার জেলাশাসক দেবপ্রিয় বর্ধন, জিলা পরিষদ সচিব দেবাশিষ দাস, জেলার বিভিন্ন পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যানগণ, জিলা পরিষদের বিভিন্ন স্থায়ী কমিটির সভাপতিগণ এবং বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিকগণ।
সভায় কৃষক কল্যাণ মন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিকগণকে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ বজায় রেখে কাজ করার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, এখানে আমরা সকলেই জনগণের উন্নয়নের জন্য কাজ করছি। জনগণের কাজ দ্রুত শেষ করার দায়িত্ব যেমন সরকারি আধিকারিকদের রয়েছে তেমনি সমান দায়িত্ব রয়েছে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদেরও। উন্নয়নমূলক কাজগুলি দ্রুত শেষ করার জন্য তিনি নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, কৃষকগণ যেন সময়মত ধানবীজ, সার পায় সেদিকে দপ্তরের আধিকারিকদের বিশেষ নজর দিতে হবে। সভায় কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দপ্তরের প্রতিনিধি জানান, 2021-22 অর্থবছরে পশ্চিম জেলায় খারিফ মরশুমে ১৬,৬১৯ হেক্টর জমিতে শ্রীপদ্ধতিতে উচ্চফলনশীল ধান চাষ করা হয়েছে। এছাড়া ১,২৬১ হেক্টরে ডাল, ৭৮৩ হেক্টরে তৈলবীজ চাষ করা হয়েছে।
রবি মরশুমেও ৫,০৬৭ হেক্টর জমিতে শ্রীপদ্ধতিতে উচ্চফলনশীল ধান চাষ করা হয়েছে। ৭৩১ হেক্টরে ডাল ও ৬৬১ হেক্টরে তৈলবীজ চাষ করা হয়েছে। প্রতিনিধি জানান, প্রধানমন্ত্রী ফসল বীমা যোজনায় এখন পর্যন্ত জেলার ৭,৮৪৮ জন কৃষকের ১২২৫৮৩ হেক্টর জমি আওতাভুক্ত হয়েছে। জেলার ৯৯৭ জন কৃষকের কিষাণ ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে কৃষিঋণ মঞ্জুর করা হয়েছে। ১৮,৫২০ জন কৃষক প্রধানমন্ত্রী কিযাণ সম্মাননিধি প্রকল্পে ৩টি কিস্তিতে বছরে ৬০০০ টাকা করে আর্থিক সুবিধা পাচ্ছেন।
সভায় প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তরের প্রতিনিধি জানান, ২০২১২২ এ পশ্চিম জেলায় বিভিন্ন প্রাণী চিকিৎসাকেন্দ্রে এবং শিবিরের মাধ্যমে ৪,৪৬,৬১৮ টি প্রাণীকে রোগপ্রতিরোধক টিকা দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন ব্লডার হাউস থেকে ২৪,৮৬৫টি মোরগের ছানা বিতরণ করা হয়েছে। মৎস্য দপ্তরের আধিকারিক সভায় জানান, মুখ্যমন্ত্রী নিবিড় মৎস্য চায় প্রকল্পে জেলার ১৭৫ জন মৎস্য চাষিকে বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছের চায়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। আগামী অর্থবর্ষে এই মাছের চায়ে তাদের বিভিন্ন সহায়তা দেওয়া হবে।
উদ্যান ও ভূমি সংরক্ষণ দপ্তরের প্রতিনিধি সভায় জানান, আগামী অর্থবর্ষ থেকে রাজ্যে পাম অয়েল চাষে গুরুত্ব দেওয়া হবে। এজন্য রাজ্যের ৫৪০ হেক্টর জমিতে পাম অয়েল গাছ লাগানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে পশ্চিম জেলায় ১০০ হেক্টর জমিতে পাম অয়েল গাছ লাগানো হবে। ডি ডব্লিউ এস দপ্তরের প্রতিনিধি সভায় জানান, ২০২১২২ এ জেলার ১০৮টি গভীর নলকূপ ও ৪৬৬টি স্মলবোর খনন করা হয়েছে।
২৪১.০৫৪ কিলোমিটার পাইপ লাইনে জল সরবরাহ করা হয়েছে। অটল জলধারা প্রকল্পে ২২৮৯৫টি পরিবারে পানীয় জলের সংযোগ দেওয়া হয়েছে। সভায় পূর্ত, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জল সম্পদ, সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা, রেশম শিল্প, শিল্প এবং পশ্চিম ত্রিপুরা জিলা পরিষদের প্রতিনিধিগণ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচি নিয়ে পর্যালোচনা করেন।