অনলাইন ডেস্ক, ২৫ মার্চ।। কমছে শীতলতা। আবহাওয়া ক্রমশ উষ্ণ হয়ে উঠছে। আর তার সঙ্গে সঙ্গেই ইউক্রেনের বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে মৃত্যুর গন্ধ। আক্ষরিক অর্থেই। কারণ পচন ধরতে শুরু করেছে নিহত রুশ সেনাদের দেহগুলোতে। আপাতত সেই দেহগুলো নিয়ে কী করা হবে, এই সমস্যায় রীতিমতো ব্যতিব্যস্ত যুদ্ধক্লান্ত ইউক্রেন।
গত মাসের ২৪ তারিখে ইউক্রেনে আছড়ে পড়েছিল রাশিয়ার আকস্মিক হামলা। এক মাস ধরে মরণপণ লড়াই করে রুশ সেনাদের ঠেকিয়ে রেখেছে ইউক্রেনের বাহিনী। কিন্তু উভয় পক্ষের ক্ষয়ক্ষতি কম হয়নি। রুশ বাহিনীর ছোঁড়া গোলাগুলি, মিসাইলে কেবল ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীরই ক্ষতি হয়নি, প্রাণ গিয়েছে অনেক সাধারণ মানুষেরও। এমনকি রেহাই পায়নি শিশুরাও। প্রাণ বাঁচাতে দেশ ছেড়েছেন অসংখ্য সাধারণ মানুষ।
অন্যদিকে রুশ বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতিও নেহাত কম নয় বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। যদিও রাশিয়ার সরকারি হিসাবে বলা হচ্ছে, ইউক্রেন যুদ্ধে নিহত রুশ সেনার সংখ্যা মোটামুটি শ পাঁচেক, কিন্তু ইউক্রেনের মতে সংখ্যাটা আসলে ১৫ হাজার ছাড়িয়েছে। এমনকি রুশ বাহিনী চলমান শ্মশান নিয়ে ইউক্রেনে ঢুকেছে বলেও দাবি করেছে ইউক্রেন, যাতে মৃতদেহ পুড়িয়ে ফেলা যায়। মৃতের সংখ্যা কমিয়ে দেখাচ্ছে রাশিয়া, এমন অভিযোগ উঠেছে রুশ দেশের নাগরিকদের মধ্য থেকেও।
এই পরিস্থিতিতে সমস্যায় পড়েছে ইউক্রেন। কারণ যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিতে স্তূপ হয়ে পড়ে রয়েছে অসংখ্য রুশ সৈন্যের মৃতদেহ। পচন ধরে গিয়ে দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করেছে তা থেকে। রাশিয়ায় মৃতদেহ বহন করে নিয়ে যাওয়ার জন্য ইউক্রেন রেলওয়ের তরফ থেকে সেনাবাহিনীকে ফ্রিজ-সহ গাড়িও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু মৃত সেনাদের দেহ ফেরত নিতে আগ্রহ দেখায়নি রাশিয়া।
ইউক্রেন রেলওয়ের এক কর্মকর্তার মন্তব্য, যুদ্ধজয়ের প্রোপাগান্ডা জিইয়ে রাখতে সৈনিকদের মায়েদেরও বঞ্চিত করছে রাশিয়া। ছেলেদের মৃতদেহটিও শেষবারের মতো দেখা, কিংবা যথোচিত সম্মানে তা সমাধিস্থ করার সুযোগটুকুও পাচ্ছেন না তারা।
মৃত রুশ সেনাদের শনাক্ত করার জন্য রাশিয়ার পরিবারগুলোকে সবরকম ভাবে সহায়তা করছে ইউক্রেন। এমনকি যুদ্ধে স্বজন হারানো ইউক্রেনের নাগরিকদের কাছেও দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে, যাতে রুশ সেনাদের দেহগুলোকে ফ্রিজে রাখার ব্যবস্থা করা হয়।
এছাড়া ইউক্রেন নিহত রুশ সেনাদের পরিচয় শনাক্তের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাযুক্ত ফেস রিকগনিশন সফটওয়্যার ব্যবহার করছে। যার মাধ্যমে ইন্টারনেটে সার্চ দিয়ে কোনো ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা করা হয়।
এভাবেই রাশিয়ার অমানবিক ঔদাসীন্যের পাল্টা জবাব দিচ্ছে ইউক্রেন। আর মানবতার খাতিরেই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের ভেতরেই প্রকৃতির সঙ্গে আরও এক যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে ইউক্রেন।