স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা, ২২ মার্চ।। আগরতলা মুম্বাই এক্সপ্রেস ট্রেন সপ্তাহে ৪ দিন এবং আগরতলা- গুয়াহাটি শতাব্দী এক্সপ্রেস সপ্তাহে ৪ দিন চালু করার উদ্যোগ গ্রহণের জন্য গত ২৫ ফেব্রুয়ারি এবং গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এনএফ রেলওয়ের জেনারেল ম্যানেজার (অপারেশন) প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। আজ বিধানসভায় একটি দৃষ্টি আকর্ষণী নোটিশের জবাব দিতে গিয়ে এই তথ্য জানান পরিবহণমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহরায়। রাজ্য বিধানসভার মুখ্য সচেতক কল্যাণী রায়ের দৃষ্টি আকর্ষণী নোটিশটি ছিল ‘ত্রিপুরা রাজ্যে ডাবল লেন পরিষেবা চালুর মাধ্যমে যাত্রী রেল সংখ্যা বৃদ্ধি করা সহ যাত্রী ও পণ্য চলাচলের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনাকে আরও উন্নত করার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে। এই দৃষ্টি আকর্ষণী নোটিশ সম্পর্কে পরিবহণমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহরায় আরও জানান, রাজ্য সরকারের পরিবহণ দপ্তরের পক্ষ থেকে ২০২০ সালের ৪ জুন রাজ্যের রেল লাইনের বিভিন্ন সিঙ্গেল লাইন ট্র্যাকগুলিকে ডাবল লাইনে রূপান্তরিত করার জন্য পরিকল্পনা দপ্তরে ‘এনইআর ভিশন-২০৩৫’-এ একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তিনি জানান, বর্তমানে রাজ্যে ৬টি এক্সপ্রেস ট্রেন আগরতলা থেকে দেশের বিভিন্ন শহরের রাজধানীর সাথে যাত্রী পরিষেবায় নিয়োজিত রয়েছে। বর্তমানে আগরতলা থেকে সপ্তাহে একদিন ত্রিপুরাসুন্দরী এক্সপ্রেস (ফিরোজপুর- পাঞ্জাব) ট্রেন চলাচল করে। একইভাবে আগরতলা থেকে সপ্তাহে ৪দিন শিয়ালদহ আগরতলা কাঞ্চনঝঙ্ঘা এক্সপ্রেস, আগরতলা থেকে সপ্তাহে ১দিন আনন্দবিহার- আগরতলা তেজস রাজধানী এক্সপ্রেস (নিউ দিল্লি) ট্রেন, আগরতলা থেকে সপ্তাহে ২দিন আগরতলা- ব্যাঙ্গালুরু হামসফর এক্সপ্রেস ট্রেন, আগরতলা থেকে সপ্তাহে ১দিন আগরতলা- দেওঘর এক্সপ্রেস ট্রেন, আগরতলা থেকে সপ্তাহে ১দিন হাবিবগঞ্জ এক্সপ্রেস (ভোপাল মধ্যপ্রদেশ) ট্রেন এবং প্রতিদিন আগরতলা- শিলচর এক্সপ্রেস ও জিরিবাম- আগরতলা জনশতাব্দী এক্সপ্রেস ট্রেন সপ্তাহে ৩দিন চলাচল করে। এছাড়া রাজ্যের ভেতরে প্রতিদিন লোকাল / ডেমো ট্রেন, প্রতিদিন ৩ জোড়া বিশেষ ডেমো ট্রেন আগরতলা- সাত্তুম, প্রতিদিন ১ জোড়া বিশেষ ডেমো ট্রেন ধর্মনগর আগরতলা এবং প্রতিদিন ১ জোড়া বিশেষ যাত্রী ট্রেন ধর্মনগর- আগরতলা রুটে চলাচল করে।পরিবহণমন্ত্রী জানিয়েছেন, রাজ্যে বর্তমানে আগরতলা এবং ধর্মনগর রেল স্টেশনে কিষাণ রেল পরিষেবা চালু রয়েছে। রেল দপ্তর জানিয়েছে, ২০২০ সালের ৫ ডিসেম্বর থেকে চলতি অর্থবছরের ১৯ মার্চ পর্যন্ত ১৪৯টি পার্সেল রেক পাঠানো হয়েছে। পণ্যবাহী ট্রেন পরিষেবার মাধ্যমে ২০২০-২১ অর্থবছরে ২৮ হাজার ১৮৪টি ওয়াগন ও ৬৫২.২৫টি রেক পাঠানো হয়েছে। ২০২১২২ অর্থবছরে (ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত) ৪২ হাজার ৭১৮টি ওয়াগন ও ১ হাজার ১০টি রেক পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি রেল দপ্তর জানিয়েছে, বদরপুর থেকে সাবুম পর্যন্ত রেলওয়ে ট্র্যাকগুলিকে বিদ্যুতায়ন করার লক্ষ্যে লার্সন অ্যান্ড টার্বো কোম্পানিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং জমি পরীক্ষার কাজ চলছে।
রাজ্যের ধলাই জেলার জওহরনগর থেকে মিজোরামের ডার্লং (১০৯ কিমি) এবং মায়ানমারের কলয়তে (১৪৮ কিমি) রেল সংযোগের মাধ্যমে রাজ্যকে ট্রান্স এশিয়ান কান্ট্রিজে যুক্ত করার জন্য চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রীকে একটি চিঠিতে অনুরোধ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব। উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ৩০ জুন ধর্মনগর থেকে বাংলাদেশের জুরি পর্যন্ত ২৫ কিমি এলাকায় রেল সম্প্রসারণের জন্য একটি চিঠিতে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রীকে অনুরোধ জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
এ বিষয়ে পরিবহণমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহরায় আরও জানান, কেন্দ্রীয় সরকারের ডোনার মন্ত্রক এবং বিদেশ মন্ত্রকের সহায়তায় বাংলাদেশের সাথে রেল যোগাযোগের মাধ্যমে যাত্রী ও পণ্য পরিষেবা বাড়ানোর লক্ষ্যে আগরতলা- আখাউড়া রেল সংযোগ ( ১২৩০ কিমি) স্থাপনের কাজ দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে। আগামী অর্থবছরের মধ্যেই এই পরিষেবা চালুর বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
পরিবহণমন্ত্রী জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে বিভিন্ন প্রকল্পের সার্ভের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রীকে বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য ২০২২ সালের রেল বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করে আর্থিক মঞ্জুরি প্রদান করতে গত ২১ জানুয়ারি অনুরোধ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ এই প্রকল্পগুলির মধ্যে রয়েছে বিলোনীয়া (ভারত) ফেণী (বাংলাদেশ) (প্রায় ৩০ কিমি), ধর্মনগর- পেঁচারথল- কৈলাসহর রেলপথ (৪১.৭৫ কিমি), ধর্মনগর- বিলোনীয়া ভায়া কৈলাসহর কমলপুর খোয়াই মোহনপুর এবং আগরতলা বিকল্প লাইন (১৭৮.৭২ কিমি)।