আত্মনির্ভর ত্রিপুরা গড়ার লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছে সরকার : শিক্ষামন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা, ২১ মার্চ।। বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য হলো আত্মনির্ভর ত্রিপুরা, মডেল ত্রিপুরা ও ঘরে ঘরে রোজগারের সুযোগ সৃষ্টি করা। এই লক্ষ্য নিয়েই রাজ্য সরকার কাজ করছে। এবার বিধানসভা অধিবেশনে প্রারম্ভিক ভাষণে রাজ্যপাল সত্যদেও নারাইল আর্য এই কথাটাই বার বার উল্লেখ করেছেন।

ধন্যবাদসূচক প্রস্তাবের উপর আলোচনার পর তা সভা কর্তৃক গৃহীত হয়। আজ বিধানসভা অধিবেশনের দ্বিতীয়ার্ধে রাজ্যপালের ভাষণের উপর ধন্যবাদসূচক প্রস্তাবের উপর আলোচনার সূচনা করে একথা বলেন সংসদীয় বিষয়ক ও শিক্ষামন্ত্রী রতনলাল নাথ।রাজ্যপালের ভাষণের পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেন, কিভাবে মডেল রাজ্য হয় এবং ইচ্ছে করলে যে তা করা যায় রাজ্য সরকার একটার পর একটা সিদ্ধান্ত কার্যকর করে তা করে দেখাচ্ছে। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রক নিষ্ঠা নামে একটি ম্যাগাজিন প্রকাশ করে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর এনসিইআরটি-র সহযোগিতায় প্রায় ৩০ হাজার প্রাথমিক শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। ঐ ম্যাগাজিনে এই প্রশিক্ষণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তারা বলেছে প্রশিক্ষণ সর্বাত্মক সফল হয়েছে।

তারা বলেছে, সারা দেশে যে ৪২ লক্ষ প্রাথমিক শিক্ষক রয়েছেন তাদের যেন ত্রিপুরার মডেল অনুসরণ করে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। এটা হল মডেল ত্রিপুরার একটি উদাহরণ। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, যারা রাজ্য সরকারের ইতিবাচক কাজের সমালোচনা করছেন তাদের দিকে নজর দেওয়ার দরকার নেই। স্বামী বিবেকানন্দ বলেছেন, ইতিবাচক হও। তিনি বলেন, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী আত্মবিশ্বাসে ভরপুর। ত্রিপুরা পূর্ণরাজ্যের মর্যাদা পাওয়ার পর এই প্রথম রাজ্যের কোনও মুখ্যমন্ত্রী এবং তার টিম মডেল ত্রিপুরা গড়ার, আত্মনির্ভর, স্বাবলম্বী ত্রিপুরা গড়ার কথা বলেছেন। বিধানসভায় শিক্ষা ও সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী রতনলাল নাথ বলেন, পূর্বতন সরকার ক্ষমতায় থাকার সময়ে রাজ্যের মানুষকে আত্মনির্ভর না করে পরনির্ভর করে রেখেছিল। বর্তমান সরকার সবাইকে নিয়ে সবার উন্নয়ন চাইছে। ভারতের এক নম্বর মডেল স্টেট হওয়ার দিকে এগোচ্ছে। গত ৩৫ বছরের বাম শাসনে মানুষকে কর্মবিমুখ করে রাখা হয়েছিল। শিক্ষাম বলেন, রাজ্য সরকার গুণগত শিক্ষ উপর সর্বাধি গুরুত্ব দিয়েছে। শুধু শিক্ষাক্ষেত্রেই নয় তিনি জনজাতিদের উন্নয়ন, কৃষি, শিল্প, বিদ্যুতায়ন, পানীয়জলের ব্যবস্থা, সড়ক যোগাযোগ, গৃহহীনদের ঘরের ব্যবস্থা করা, স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নতির চিত্র তথ্য সহ তুলে ধরেন। তিনি আলোচনায় এখন পর্যন্ত সরকারি চাকরি দেওয়া এবং বিভিন্ন দপ্তরে শূন্যপদ পূরণে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের তথ্যও তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, সারা বিশ্বেই এখন উন্নয়নের রাজনীতি চলছে। সম্প্রতি পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের মানুষ হঠকারি রাজনীতি পছন্দ করে না। নির্বাচনী ফলাফলই তার প্রমাণ। রাজ্যপালের ভাষণকে সমর্থন করে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সরকারি মুখ্যসচেতক বিধায়ক কল্যাণী রায় বলেন, ঐতিহাসিক মতদানের মাধ্যমে এই সরকার গঠিত হয়েছে। সরকার প্রথম থেকে রাজ্যের সামগ্রিক উন্নয়নে তৎপর।

রাজ্য সরকার নিয়ম নীতি ও নিয়ত এই তিনটি বিষয়ের উপর গুরুত্ব দিয়ে সরকারি সকল ধরনের উন্নয়নমূলক কাজকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান সরকার রাজ্যের সাধারণ মানুষের সাথে জুড়ে রয়েছে। নারীর ক্ষমতায়ন ও উন্নয়নের জন্য আইনগত ও কর্মসূচিগত পদক্ষেপ নিয়েছে এই সরকার। মেধা যাদের রয়েছে তারাই চাকরি পাচ্ছে। বিগত সরকার কেবলমাত্র মানুষের সাথে দ্বিচারিতাই করে গেছে, যা আজও বজায় রয়েছে। আলোচনায় অংশ নিয়ে বিধায়ক ধনঞ্জয় ত্রিপুরা বলেন, এই সরকার উন্নয়নে বিশ্বাসী। জাতি, জনজাতি সকলের সমর্থনে সরকার এগিয়ে চলেছে।

বিধায়ক সুধাংশু দাস বলেন, রাজ্যের অন্তিম ব্যক্তি পর্যন্ত উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দেওয়ার জন্য সচেষ্ট সরকার। সময়ের কাজ সময়ের মধ্যে শেষ করতে রাজ্য সরকার বদ্ধপরিকর। এছাড়াও বিধানসভায় রাজ্যপালের ভাষণকে সমর্থন জানিয়ে বক্তব্য রাখেন বিধায়ক রঞ্জিত দাস। অপরদিকে রাজ্যপালের ভাষণের বিরোধিতা করে বক্তব্য রাখেন বিধায়ক তপন চক্রবর্তী, বিধায়ক সহিদ চৌধুরী, বিধায়ক বিজিতা নাথ, বিধায়ক যশবীর ত্রিপুরা। আলোচনার পর রাজ্যপালের ভাষণের উপর আনা সংশোধনী প্রস্তাব বাতিল হয়ে যায় ও রাজ্যপালের ভাষণের উপর আনা ধন্যবাদসূচক প্রস্তাব গৃহীত হয়।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *