অনলাইন ডেস্ক, ১৯ মার্চ ।। ‘এক হাতে তালি বাজে না’, কিংবা ‘বাঘের গলায় ঘণ্টা যে বেঁধেছে তাকেই সেটি খুলতে হবে’। এভাবেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে পালটা হুঁশিয়ারি দিল চীন। শুক্রবার সন্ধ্যায় বাইডেন-জিনপিং বৈঠক সম্পর্কে প্রকাশিত বিবৃতিতে এভাবেই চাপ বজায় রাখার খেলা অব্যাহত রাখতে দেখা গেছে বেইজিংকে। এই যুদ্ধের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো সামরিক জোটকেই পরোক্ষে দায়ী করছে চীনের জিনপিং প্রশাসন।
গতকাল, শুক্রবার ভার্চুয়াল বৈঠকে যুদ্ধের আবহে তৈরি হওয়া নতুন সমীকরণ নিয়ে আলোচনা হয় দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে। এরপর সেই ভিডিও কল নিয়ে দীর্ঘ বিবৃতি প্রকাশ করে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সেখানেই এই ধরনের প্রচলিত প্রবাদের উল্লেখ করে বেইজিং তাদের বক্তব্য আবারও পরিষ্কার করে দিল।
বিবৃতির অর্ধেকেরও বেশি অংশ জুড়েই রয়েছে তাইওয়ান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে চীনের ক্ষোভ। এর পাশাপাশি ইউক্রেন ইস্যুতে ন্যাটো যেভাবে কেবলই রাশিয়াকে দায়ী করছে, তারও তীব্র প্রতিবাদ করা হয়েছে।
চীনা সরকারি সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, শুক্রবার আলোচনা চলাকালীন জিনপিং বলেন, ‘যুদ্ধে কারও স্বার্থরক্ষা হয় না। শান্তি ও নিরাপত্তার বিষয়গুলোকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের গুরুত্ব দেওয়া উচিত। দুই দেশের সম্পর্ক সামরিক সংঘাতে গড়ানো উচিত নয়’।
বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনায় চীনা প্রেসিডেন্টের উপর রাশিয়ার পাশে না দাঁড়ানোর জন্য চাপ তৈরি করেছেন বাইডেন।
কিন্তু সেই প্রয়াস যে সফল হবে না সে ব্যাপারে নিশ্চিত ছিল ওয়াকিবহাল মহল। এবার সেই বৈঠক সংক্রান্ত চীনের বিবৃতি থেকে সেটাই পরিষ্কার হয়ে গেল।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি রাশিয়াকে সহায়তা দেওয়ার অভিযোগে চীনকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। কয়েকদিন আগেই ফিনান্সিয়াল টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউক্রেনে হামলা চালিয়ে যেতে চীনের কাছে অস্ত্র সহায়তা চেয়েছে রাশিয়া। একইসঙ্গে নিষেধাজ্ঞার প্রভাব কিছুটা কমাতে বেইজিংয়ের মদত চেয়েছে মস্কো।
আগেই জানা গিয়েছিল যে, মাস্টার কার্ড ও ভিসার মতো আর্থিক লেনদেন সংস্থাগুলো রাশিয়ায় কাজ বন্ধ করার পর চীনা সিস্টেম ব্যবহার করছে দেশটি। একইসঙ্গে পণ্য আমদানি ও রপ্তানির ক্ষেত্রেও চীন বড় বাজার হয়ে উঠতে পারে। ফলে মস্কো-বেইজিং বন্ধুত্ব নিয়ে রীতিমতো উদ্বিগ্ন ওয়াশিংটন।