অনলাইন ডেস্ক, ১৯ মার্চ ।। শুক্রবার চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে ভিডিও কল করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টা কথা হয় দুই দেশের রাষ্ট্রপতির মধ্যে।
এ সময়ে বাইডেন হুঁশিয়ারি দেন, ইউক্রেনে চলমান রুশ সামরিক অভিযানে চীন যদি রাশিয়াকে অর্থ কিংবা সমরাস্ত্র দিয়ে সহায়তা করে, সেক্ষেত্রে চীনকে নিষেধাজ্ঞাসহ বিভিন্ন বৈরী পরিস্থিতির মুখোমুখী হতে হবে।
জবাবে জিনপিং বলেন, ‘ইউক্রেন সংকট হলো এমন একটি ঘটনা যা আমরা দেখতে চাই না’।
পাশাপাশি চীনের রাষ্ট্রপতি যোগ করেন- যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধেই এই ফোন কলে উপস্থিত হয়েছেন তিনি।
জিনপিং আরও বলেন যে, ‘চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক সামরিক শত্রুতার পর্যায়ে যেতে পারে না’।
পাশাপাশি প্রয়োজন পড়লে চীন এবং আমেরিকাকে আন্তর্জাতিক দায়িত্ব কাঁধে নিতে হবে বলেও জানান শি জিনপিং। তিনি আরও বলেন, ‘শান্তি ও নিরাপত্তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ’।
রাশিয়া-ইউক্রেনের সংকট সমাধানে রাশিয়ার সঙ্গে ন্যাটোর বৈঠক করা উচিত বলেও মন্তব্য করেছেন জিনপিং।
তবে এটা এখনও স্পষ্ট হয়নি যে, জিনপিং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের পদক্ষেপের নিন্দা করবেন কি না। ইউক্রেনের উপর রুশ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে চীন আমেরিকাকে সমর্থন করবে কি না, তাও এখনও স্পষ্ট নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের শঙ্কা, চলমান রুশ সামরিক অভিযানে রাশিয়াকে অর্থ ও সমরাস্ত্র সহায়তা দেওয়ার ব্যাপারে সম্মত হয়েছে চীন। এই আশঙ্কার সূত্রপাত হয় ব্রিটেনের দৈনিক ফিন্যান্সিয়াল টাইমস ও মার্কিন দৈনিক নিউইয়র্ক টাইমসে সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদনের মাধ্যমে।
গত ১৩ মার্চ এই দুটি পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, পুতিন চাইছেন ইউক্রেনে চলমান সামরিক অভিযানে চীন যেন রাশিয়াকে সমরাস্ত্র ও অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করে।
পত্রিকা দুটির প্রতিবেদন আমলে নিয়ে গত ১৪ মার্চ বাইডেনের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান চীনকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বেইজিং মস্কোকে অর্থনৈতিক বা অন্যান্য সহায়তা দিচ্ছে কি না সেটি ওয়াশিংটন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং তেমন কিছু ঘটলে (চীনের বিরুদ্ধে) পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তবে সুলিভানের এই অভিযোগের জবাবে ওই দিনই চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিয়্যু পেংগ্যিউ বলেছিলেন, রাশিয়ার পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো আহ্বান কিংবা অনুরোধ এখন পর্যন্ত আসেনি এবং যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিযোগ ভিত্তিহীন।