অনলাইন ডেস্ক, ১৮ মার্চ।। অবশেষে ভারতের সংবিধান অলচিকি ভাষায় অনুবাদ করা হল। অধ্যাপক শ্রীপতি টুডু এই অনুবাদ করেছেন । তিনি পুরুলিয়ার সিধো-কানহো-বিরসা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাঁওতালি ভাষার সহকারি অধ্যাপক । তিনি মনে করেন, ‘ সাঁওতালদের মতো একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠী সংবিধানের সঙ্গে পরিচিত নয় । যে সংবিধানের ভিত্তিতে দেশ চলে কিন্তু ওই সম্প্রদায়টি ঐতিহাসিকভাবে বঞ্চিত তাই তাদের অধিকার কি,দেশের বিধান কি এবং ভেতরে কি লেখা আছে তা বোঝার জন্য এটি পড়তেই হবে ।তাই অলচিকি ভাষায় এটি অনুবাদ করেছি।’
২০০৩ সালে, ৯২ তম সংবিধান সংশোধনী আইনে অলচিকি ভাষাকে ভারতের সংবিধানের অষ্টম তপশিলিতে-তে যুক্ত করা হয়। বোড়ো, ডোগরি এবং মৈথিলি সহ ভারতের সরকারি ভাষাগুলির তালিকায় স্থান পায় অলচিকি । এই সংযোজনের অর্থ হল, ভারত সরকার সাঁওতালি ভাষার বিকাশ এবং স্কুল-স্তর এবং সরকারি চাকরির চাকরির জন্য প্রবেশিকা পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের অলচিকি ভাষা ব্যবহার করার অনুমতি দিতে বাধ্য থাকবে।
২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে সারা দেশে ৭০লাখেরও বেশি লোক সাঁওতালি ভাষায় কথা বলে এবং সম্প্রদায়টি ভারতের তৃতীয় বৃহত্তম উপজাতি। পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা এবং ঝাড়খণ্ড সহ বৃহৎ সংখ্যায় সাতটি রাজ্যে তারা বসবাস করে।। সাঁওতালরা বাংলাদেশ, ভুটান এবং নেপালে বাস করে।
২০০৫ সালে, সাহিত্য আকাদেমি সাঁওতালি সাহিত্যে অসামান্য সাহিত্যকর্মের জন্য প্রতি বছর পুরষ্কার প্রদান করা শুরু করে।
শ্রীপতি টুডু ২০১৯সালে কলকাতা-ভিত্তিক প্রকাশক তাওরিন পাবলিকেশন্সের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। যারা সাঁওতালি ভাষার বই প্রকাশ করেছিল। তিনি জানতে পারেন,ওই প্রকাশক সংবিধানের অনুবাদ প্রকাশ করতে আগ্রহী।তারপর শুরু হয় কাজ।শ্রীপতি টুডু বলেন, আমি আন্তরিকভাবে এটি অনুবাদ করার কাজ শুরু করেছিলাম। সংবিধান আগে কখনো সাঁওতালি ভাষায় অনুবাদ করা হয়নি।”
বইটি গত বছর প্রকাশিত হয়েছে। অ্যামাজনে এবং প্রকাশকের কাছে এটি পাওয়া যাবে। গত সপ্তাহে কলকাতা বইমেলায় সংবিধানের সাঁওতালি সংস্করণটি পশ্চিমবঙ্গ সাঁওতালি অ্যাকাডেমি পরিচালিত একটি স্টলে বিক্রির জন্য রাখা ছিল।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনস্থ সরকারি ভাষা বিভাগের কেন্দ্রীয় অনুবাদ ব্যুরোর যুগ্ম পরিচালক বিনোদ কুমার স্যান্ডলেশ বলেছেন, “যে কোনও ভারতীয় নাগরিক তাদের নিজস্ব ভাষায় সংবিধান অনুবাদ করতে পারেন। অনুবাদের জন্য তাদের অনুমতির প্রয়োজন নেই।যে কোন ব্যক্তির সংবিধানের অনুবাদ বিক্রি করে আয় করার অধিকারও রয়েছে।”