পুলিশি এনকাউন্টারে মৃত গুয়াহাটির গারিগাঁও গণধর্ষণ-কাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত

অনলাইন ডেস্ক, ১৬ মার্চ।। আড়াই বছর পরে ফিরে এল সেই হায়দরাবাদের গণধর্ষণ এবং অভিযুক্তকে হত্যার স্মৃতি। এবার ঘটনাস্থল উত্তরপূর্বের রাজ্য অসম। পুলিশি এনকাউন্টারে মৃত গুয়াহাটির গারিগাঁও গণধর্ষণ-কাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত ৷ মঙ্গলবার কামরূপ গ্রামীণ জেলার দামপুর থেকে বিকি আলীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

অসম রাজ্য পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে রাতে পুলিশের হেফাজত থেকে পালানোর চেষ্টা করে অভিযুক্ত । তাকে একাধিকবার থামতে বললেও আদেশ মানেনি। শেষ পর্যন্ত তাকে লক্ষ্য করে চার রাউন্ড গুলি ছোঁড়ে পুলিশ। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় অভিযুক্তের। এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। যদিও কোনও মানবাধিকার সংগঠন এই বিষয়ে এখনও সক্রিয় হয়নি।

জানা গিয়েছে যে দিন কয়েক আগে চার বন্ধুর সঙ্গে গুয়াহাটির আদাবাড়ির একটি হোটেলে দশম শ্রেনীর এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করে অভিযুক্ত। তারপরে একটি ভিডিও রেকর্ড করে সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করে। এরপরেই পানবাজার মহিলা থানায় মামলা দায়ের করেন নির্যাতিতার বাবা-মা। পকসো এবং আইটি আইনে মামলা দায়ের করা হয়।

ঘটনার পর থেকে পাঁচ অভিযুক্তই পলাতক ছিল। সোমবার অভিযুক্তদের পরিবারের সাত সদস্যকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাঁদের জেরার পর বিকির বিষয়ে তথ্য পায় তদন্তকারীরা। এরপরেই বিকিকে আটক করে জালুকবাড়ী থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। যদিও বাকি চারজনের এখনও খোঁজ মেলেনি৷ সেই বিকিরই এনকাউন্টারে মৃত্যু হয়েছে।

২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে হায়দরাবাদে পশু চিকিৎসককে ধর্ষণ করে পুড়িয়ে খুনের ঘটনায় চার অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ৷ দেশ জুড়ে ওই অভিযুক্তদের এনকাউন্টারের দাবি উঠেছিল। বিভিন্ন সিনেমার উল্লেখ করে পুলিশের কাছে এনকাউন্টারের ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছিল। ইংরেজ জমানার কায়দায় ওই অভিযুক্তদের এনকাউন্টারের দাবিও উঠেছিল। যা নিয়ে ভরে গিয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়া। ওই বছরের ৬ ডিসেম্বর ধৃতদের ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে ঘটনার পুনর্নিমাণের চেষ্টা করার সময় তারা পালানোর চেষ্টা করে৷ সেই সময় অভিযুক্তরা পুলিশের উপর হামলা করে ও বন্দুক কেড়ে পালানোর চেষ্টা করে৷ পুলিশ গুলি চালাতে বাধ্য হয়৷ প্রাণ হারায় চার অভিযুক্ত।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *