প্রধানমন্ত্রী মোদি নিজেই ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’ নামক বিভেদমূলক ছবির সাফল্য কামনা করেছেন

অনলাইন ডেস্ক, ১৬ মার্চ ।। দ্য কাশ্মীর ফাইলস। বিকৃত, অর্ধসত্য নির্ভর সিনেমা। ছবির পরিচালক বিবেক অগ্নিহোত্রী যে আরএসএস মানসিকতার লোক তা বোধকরি অজানা নয়। অনুপম খের ও মিঠুনও বিজেপির ঘরের লোক। এই ছবি নিয়ে মোদীজি বেজায় উৎসাহী। বিজেপি শাসিত বহু রাজ্যে ছবিটি শুল্কমুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। ব্যাপকহারে প্রচার মাধ্যমকে কাজে লাগানো হচ্ছে। উদ্দেশ্য একটা অর্ধসত্য ন্যারেটিভ রচনা। কাশ্মীরি পণ্ডিতদের ওপর যে অত্যাচার হয়েছে সে কথা অস্বীকারের উপায় নেই। কিন্তু কাশ্মীরি আম জনতার উপর অত্যাচারের কাহিনী তার থেকেও দীর্ঘ।একদিকে সন্ত্রাসবাদীদের হাতে তাদের প্রাণ গিয়েছে অন্যদিকে ভারতীয় সেনার বুলেটে। তবে এই সিনেমাতে সাধারণ কাশ্মীরিদের যন্ত্রণার কথাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।

আসলে এতদিন বিজেপি কাশ্মীরি পণ্ডিতদের ইস্যুকে সামনে রেখে রাজনীতি করেছে।কিন্তু তাদের জন্য কিছু করেনি। নাকের বদলে নরুনের মত এবার তাই কাশ্মীরি পণ্ডিতদের জন্য সিনেমা বানানো হয়েছে। বিজেপি তার ইস্তেহারে বলেছিল কাশ্মীরি পন্ডিতদের নিজের বাসভুমিতে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। তারা সেখানেই থাকবেন। কিন্তু আজও তা হয়নি। এখন কাশ্মীরে ৩৭০ ধারায় নেই। তাহলে বাধ সাধছে কি ! যোগীর ফর্মুলা হল মুসলিম শাসকদের নাম ও পরিচয় বহন করে এমন জায়গাগুলির নাম পরিবর্তন। এবার বোধহয় আরএসএসের থিঙ্কট্যাঙ্ক সিনেমা বানিয়ে নয়া ন্যারেটিভ রচনার কাজ চালিয়ে যাবে।এরা জানে সাধারণ মানুষ তেমন একটা লেখাপড়া করে না। ফলে অর্ধসত্য নিবন্ধ লিখে সেই প্রচারটা হবে না। যেটা একটা সিনেমাতে সম্ভব।

প্রধানমন্ত্রী মোদি নিজেই ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’ নামক এই বিভেদমূলক ছবিটির সাফল্য কামনা করেছেন। মুভিটিতে যে ৬৫০জন কাশ্মীরি পণ্ডিতকে হত্যা করার কাহিনী বর্ণনা করা হয়েছে, এই পরিসংখ্যান কোথা থেকে এল? তার কোনও স্পষ্ট জবাব কিন্তু কেউই দিচ্ছেন না। হিন্দু কাশ্মীরি পণ্ডিতরাই হচ্ছেন কাশ্মীরের আসল ভূমিপুত্র। আর কাশ্মীরি মুসলিমরা হচ্ছেন বহিরাগত! এই ধারণা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে।
কাশ্মীরে এখনও হাজার হাজার মুসলিম যুবক নিরুদ্দেশ রয়েছে। তাদের মা, বোন ও স্ত্রীরা জানতে চান, তাদের সন্তান বা স্বামী বেঁচে আছে না নিহত হয়েছে। হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশন বা মানবাধিকার সংস্থাগুলি এই প্রশ্নে বার বার কাশ্মীর প্রশাসন ও ভারত সরকারকে অনুরোধ করেছে, সঠিক জবাব তুলে ধরতে। কিন্তু সরকার এই বিষয়ে নিরুত্তর। কাশ্মীরে যে এক লক্ষেরও বেশি তরুণ নিহত হয়েছে। তাদের পরিবারের জন্য কারও কোনও সহানুভূতি নেই। তাদের নিয়ে ছবি বানানো হলে নির্ঘাৎ দেশদ্রোহী মামলা দায়ের হবে। এমনিতেই কাশ্মীরি সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ইউপিপিএ দেওয়া হচ্ছে। তাহলে মুভি বানালে তার ফলে যে কি হবে তা বুঝতে কি খুব অসুবিধা হচ্ছে ?

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *