স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা, ৮ মার্চ।। মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেবের নেতৃত্বে এই সরকার রাজ্যবাসীর জন্য যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো তা আগামী এক বছরের মধ্যে একশো শতাংশ পূরণ করবে। এরপরই তারা আপনাদের কাছে আশীর্বাদ নিতে যাবেন। আজ আনন্দনগরে ন্যাশনাল ফরেন্সিক সায়েন্স ইউনিভার্সিটির ভূমিপূজা এবং শিলান্যাস করে একথা বলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি আশা প্রকাশ করেন রাজ্যবাসী এই সরকারকে পুনরায় আশীর্বাদ করবেন।
আগরতলার অদূরেই আনন্দনগরে গড়ে উঠবে ন্যাশনাল ফরেন্সিক সায়েন্স ইউনিভার্সিটি। এজন্য রাজ্য সরকার ৪৯.২ একর জমি দিয়েছে। আজ বিকেলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব প্রথমে ভূমি পূজা করেন। এরপর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিলান্যাস করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান রাজ্য সরকারের চার বছর হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী এবং উপমুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে এই সরকার সাফল্যের সঙ্গে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে গত ৫০ বছরের ত্রিপুরাকে বদলানোর কাজ এই সরকার করছে। তিনি বলেন, ২০১৮ সালের আগে যতবার ত্রিপুরাসুন্দরী মন্দির দর্শন করেছেন ততবারই প্রার্থনা করেছেন ত্রিপুরায় এমন একটি সরকার আসুক যে সরকার ত্রিপুরাকে আতঙ্কবাদ এবং নেশা থেকে মুক্ত করবে এবং বিকাশের পথে নিয়ে যাবে। তিনি জানান, আজ তিনি বাংলাদেশ সীমান্ত পর্যন্ত ঘুরে এসেছেন। গত চার বছরে রাজ্যে সড়ক সহ যে পরিকাঠামো গড়ে উঠেছে এজন্য তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলির মধ্যে ত্রিপুরাতেই এই প্রথম ন্যাশানাল ফরেন্সিক সায়েন্স ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাস হচ্ছে। ত্রিপুরার যুবক যুবতী এবং বাচ্চাদের জন্য এটা খুবই বড় বিষয়। যারা এখান থেকে স্নাতক হবে তাদের জন্য চাকরি নিশ্চিত। তিনি বলেন, উত্তর পূর্বাঞ্চলে সন্ত্রাসবাদী তৎপরতা, অনুপ্রবেশের সমস্যা, নেশাদ্রব্য ব্যবহারের সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যার মোকাবিলা করতে হবে। সাইবার অপরাধেরও মোকাবিলা করতে হবে।
এই পরিস্থিতিতে এখানে ফরেন্সিক ইউনিভার্সিটি চালু হওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এখানে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর বিভিন্ন বিষয় পড়ানো হবে। এখানে যেমন ছেলেমেয়েরা পড়বে তেমনি কলেজে পড়ানোর প্রফেসারও পাওয়া যাবে। তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এখানে তিন চার হাজার ছাত্রছাত্রী পড়াশুনা করবে এবং তাদের ভবিষ্যৎ তৈরি করবে। এর পাশাপাশি এই এলাকারও বিকাশ হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। এই দিনে রাজ্য সরকার মহিলা স্বশক্তিকরণে কিছু নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিদ্ধান্তগুলি তুলে ধরেন। তিনি জানান, রাজ্য সরকারের সরকারি চাকরিতে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ থাকবে। তিনি বলেন, রাজ্যে ৫৪টি চা বাগান রয়েছে। চা বাগান শ্রমিকদের জন্যও রাজ্য সরকারের নতুন একটি প্রকল্প ঘোষণা করেন তিনি। সবশেষে তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা পড়াশুনা করবে তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব বলেন, উত্তর পূর্বাঞ্চলের এই অঞ্চলেই প্রথম ন্যাশনাল ফরেন্সিক সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস হতে চলেছে। ত্রিপুরার মানুষ ভাগ্যবান। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রচেষ্টাতেই ত্রিপুরাতে এই বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা সম্ভব হচ্ছে।
আর এই বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণে প্রথম ধাপে ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে। পরবর্তী ধাপে তিন বছরে আরও ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ হবে। শুধু উত্তর পূর্বাঞ্চলই নয় এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনার জন্য আসবে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশের ছাত্রছাত্রীরাও। এতে আগামীদিনে এই অঞ্চলের আমূল পরিবর্তন হবে। এর পাশাপাশি এই ফরেন্সিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে ত্রিপুরাকে চিনবে গোটা বিশ্ব।
আন্তর্জাতিক নারী দিবসের অংশ হিসেবে নারী শক্তির বিকাশে বিশেষ ভূমিকা এবং কর্মক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের হাত ধরে রাজ্যের ১০ জন মহিলাকে সংবর্ধিত করা হয়। সম্মাননা প্রাপক মহিলারা হচ্ছেন স্বসহায়ক দলের সদস্যা প্রিয়াঙ্কা ভৌমিক, সোমা বর্মণ, সাইমন দেবী জমাতিয়া, জোনাকি দে দত্ত, মিঠু রুদ্রপাল ও ফুলবর্ত্তী জমাতিয়া।
সেই সাথে নারী ও শিশুদের পোষণ কর্মসূচিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সংবর্ধিত হন দুই অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী পিয়ারা কোম ও মনোয়ারা বেগম। ক্রীড়াক্ষেত্রে অ্যাথলেটিক্সে বিশেষ অবদানের জন্য সংবর্ধিত হন প্রিয়াঙ্কা দাশগুপ্ত। এর পাশাপাশি টিসিএস গ্রেড টু পরীক্ষায় শীর্ষ স্থানাধিকারী হিসেবে সম্মানিত হন কৃতিকা সাহা। অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তাদের সকলকে পুরস্কৃত করে সম্মানিত করেন।
এদিন অনুষ্ঠানে সম্মাননীয় অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপমুখ্যমন্ত্রী যীশু দেববর্মা, কেন্দ্রীয় সামাজিক ন্যায় বিচার ও ক্ষমতায়ন মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী প্রতিমা ভৌমিক, জনজাতি কল্যাণমন্ত্রী মেবার কুমার জমাতিয়া, সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা মন্ত্রী সান্ত্বনা চাকমা, কারামন্ত্রী রামপ্রসাদ পাল, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব অজয় কুমার ভাল্লা, মুখ্যসচিব কুমার অলক এবং জাতীয় ফরেন্সিক বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. জে এম ব্যাস। এদিন উত্তর পূর্বের বুকে রাজ্যে প্রথমবারের মতো জাতীয় ফরেন্সিক বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিলান্যাস অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে থাকলো ত্রিপুরার আপামর জনসাধারণ।