স্টাফ রিপোর্টার, ধর্মনগর, ৫ মার্চ।। ভারতীয় সংস্কৃতি বৈচিত্রের মধ্যেও ঐক্যের বন্ধনে সবাইকে একসূত্রে বেঁধে রাখে। রাজ্যের শিল্প সংস্কৃতি চর্চার সুযোগ সম্প্রসারণে গুচ্ছ পরিকল্পনা রূপায়িত হচ্ছে।
আজ উত্তর ত্রিপুরা জেলাভিত্তিক ‘বইমেলা-২০২২’ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব। এই বইমেলার ভাবনা আমার ত্রিপুরা, আমার গর্ব’। উত্তর ত্রিপুরা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ও ধর্মনগর পুর পরিষদ এবং তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের যৌথ ব্যবস্থাপনায় ধর্মনগর বিবিআই মাঠে পাঁচ দিনব্যাপী বইমেলার আয়োজন করা হয়েছে।
তার আগে ধর্মনগর মহকুমার অন্তর্গত উপ্তাখালি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জন্য নতুন ভবন নির্মাণের শিলান্যাস করেন মুখ্যমন্ত্রী। তারপর তিনি রাজনগর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নবনির্মিত ভবনের উদ্বোধন করেন। ১০ শয্যাবিশিষ্ট রাজনগর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ও ১০টি স্টাফ কোয়ার্টার নির্মাণে মোট ব্যয় হয়েছে ৩ কোটি ৮৫ লক্ষ টাকা। ১০ শয্যাবিশিষ্ট উপ্তাখালি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র নির্মাণের জন্য আনুমানিক বায় ধরা হয়েছে ৬ কোটি ৪৫ লক্ষ টাকা।
বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব বলেন, ভারতীয় সংস্কৃতিই হল আমাদের অস্তিত্ব। রাজ্যের সাস্কৃতিক চর্চার সুযোগ সম্প্রসারণে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে কাজ করছে সরকার। যার মধ্যে অন্যতম আগরতলায় কেন্দ্রীয় ভাবে কালচারেল হাব তৈরি করার লক্ষ্যে ১০০ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সত্যজিত রায় ফিল্ম ইন্সটিটিউটের সহায়তায় রাজ্যে একটি সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ন্যাশনাল স্কুল অফ ড্রামা ত্রিপুরা সেন্টারের জন্য জিরানীয়া মহকুমার অধীন ২,৩৬০ একর জায়গা রাজ্য সরকারের কাছ থেকে প্রদানের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তার পাশাপাশি ললিতকলা একাডেমির ত্রিপুরা সেন্টার স্থাপনের জন্য জায়গার বন্দোবস্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভারত সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীণ স্বশাসিত সংস্থাগুলির আরও কিছু আঞ্চলিক সেন্টার স্থাপনের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাজ্যের সংস্কৃতিকে আরও বিকশিত ও সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রদেশের সঙ্গে সাংস্কৃতিক আদান প্রদানে সুযোগ সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে পরিকল্পনা গৃহিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর অত্যাধুনিকীকরণ সহ পরিষেবার মান উন্নয়নে গুচ্ছ পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়ণ হচ্ছে। যার অন্যতম নজির ত্রিপুরায় প্রথমবারের মত সম্পন্ন হওয়া ওপেন হার্ট সার্জারি। সমস্ত ধরণের চিকিৎসার সুযোগ রাজ্যেই উপলব্ধতার প্রবাহমানতা হিসেবে ত্রিপুরায় সম্পন্ন হয়েছে প্রথমবারের মত হাঁটু প্রতিস্থাপন। তাছাড়াও রাজ্যেই যেন কিডনি প্রতিস্থাপনের মত পরিষেবা প্রদান করা যায় সেই লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে সরকার। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ত্রিপুরার বাইরে গিয়ে উন্নত চিকিৎসা গ্রহণ করার জন্য একটা সময় রাজ্যের মানুষকে অনেক অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে।
কিন্তু বর্তমান সরকার সমস্ত ধরণের চিকিৎসার সুযোগ রাজ্যেই তৈরী করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছে। এরফলে একদিকে যেমন ত্রিপুরাতেই সমস্ত চিকিৎসার সুযোগ গ্রহণ করা যাবে অন্যদিকে চিকিৎসার জন্য ব্যয় হওয়া রাজ্যের মানুষের অর্থ ত্রিপুরাতেই বায় হবে। বিগত দিনে উন্নয়নের প্রশ্নে পিছিয়েপড়া ক্ষেত্রেগুলির দ্রুত মানোন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার প্রাধান্যের ভিত্তিতে কাজ করছেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিধানসভার উপাধ্যক্ষ বিশ্ববন্ধু সেন ও উত্তর ত্রিপুরা জেলার জেলাশাসক ও সমাহর্তা নাগেশ কুমার বি। ধর্মনগর মহকুমায় নবনির্মিত রাজনগর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দ্বারোদঘাটনের পর মুখ্যমন্ত্রী প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বিভিন্ন বিভাগ পরিদর্শন করেন ও পরিষেবা সম্পর্কে অবহিত হন। তার আগে ধর্মনগর মহকুমার অন্তর্গত উপ্তাখালি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নতুন ভবন নির্মাণের জন্য শিলান্যাস শেষে উপস্থিত সাধারণ নাগরিকের সঙ্গে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী।
রাজনগর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দ্বারোদঘাটন ও উপ্তাখালি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের শিলান্যাস অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেবের সাথে উপস্থিত ছিলেন বিধানসভার উপাধ্যক্ষ বিশ্ববন্ধু সেন ও উত্তর ত্রিপুরা জেলার জেলাশাসক ও সমাহর্তা নাগেশ কুমার বি, উত্তর ত্রিপুরা জিলা পরিষদের সভাধিপতি ভবতোষ দাস, পরিবার কল্যাণ ও রোগ প্রতিরোধক দপ্তরের অধিকর্তা ডা. রাধা দেববর্মা প্রমুখ। উত্তর ত্রিপুরা জেলাভিত্তিক বইমেলা অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর সাথে উপস্থিত ছিলেন উত্তর ত্রিপুরা জিলা পরিষদের সভাধিপতি ভবতোষ দাস, ধর্মনগর পুর পরিষদের চেয়ারপার্সন প্রদ্যোত দে সরকার প্রমুখ।