স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা, ২ মার্চ।। রাজ্যের ক্রীড়া পরিকাঠামোর উন্নয়নে আগামী এক বছরে প্রায় পঞ্চাশ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। রাজ্যে ক্রীড়া পরিকাঠামোর উন্নয়নে সদর্থক মনোভাব নিয়ে কাজ করছে সরকার। রাজ্য সরকারের উদ্দেশ্য ক্রীড়া সামগ্রীর অভাবে ছাত্রছাত্রীদের প্রশিক্ষণে যাতে কোনও ব্যাঘাত না ঘটে।
আজ বাধারঘাট ত্রিপুরা স্পোর্টস স্কুল প্রাঙ্গণে আয়োজিত পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার কোচিং সেন্টারগুলিতে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে একথা বলেন যুব বিষয়ক ও ক্রীড়ামন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী। উল্লেখ্য, যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া দপ্তরের অন্তর্গত রাজ্যের ২০৬টি কোচিং সেন্টারে বিভিন্ন ক্রীড়া সামগ্রী দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এজন্য ব্যয় হবে ১৪ লক্ষ টাকা।
ক্রীড়াক্ষেত্রে সাফল্য ও ব্যর্থতা শারীর শিক্ষকদের কাজ করার মনোভাবের উপরই নির্ভর করছে বলে অভিমত প্রকাশ করেন ক্রীড়ামন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী। তিনি বলেন, রাজ্যে ক্রীড়া পরিকাঠামোর উন্নয়নে বাজেট কয়েক গুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। সুস্থ দেহ ও মানসিকতা সম্পন্ন যুব সমাজকে নিয়ে সুস্থ সমাজ গঠনে ব্রতী হতে হবে সবাইকে। সেই লক্ষ্যেই নতুন জাতীয় শিক্ষানীতিতে প্রতিটি বিদ্যালয়ে শারীর শিক্ষণ শিক্ষক নিয়োগ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
এরফলে অবিলম্বে শিক্ষা দপ্তর থেকে ৩ শতাধিক শারীর শিক্ষণ শিক্ষক নিয়োগ করা হবে। এছাড়াও যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া দপ্তর থেকে ১৫০ শারীর শিক্ষক নিয়োগ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে অচিরেই। তিনি আরও বলেন, রাজ্যের ৮টি জেলাতেই কেন্দ্রীয় প্রকল্পে স্পোর্টস হল নির্মাণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।তাছাড়াও বর্তমানে রাজ্যের যে সকল ক্রীড়া পরিকাঠামো রয়েছে তার বিকাশের পাশাপাশি নতুন নতুন পরিকাঠামো গড়ার জন্য সরকার উদ্যোগী হয়েছে। তিনি বলেন, নেশা ও খেলাধুলা একই সাথে চলতে পারে না। রাজ্যের যুব সমাজকে নেশার নাগপাশ থেকে দূরে
রাখতে হলে তাদেরকে আরও বেশি করে খেলার সাথে যুক্ত করতে হবে। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আগরতলা পুরনিগমের ডেপুটি মেয়র মণিকা দাস দত্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছাত্রছাত্রীদের খেলাধুলার পাশাপাশি পড়াশুনাকে সমানতালে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আহ্বান জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন করোনাকালীন সময়ে ক্রীড়াক্ষেত্রে যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে তা আগামীদিনে অধিক পরিশ্রমের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীরা কাটিয়ে উঠবে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া দপ্তরের অধিকর্তা সুবিকাশ দেববর্মা এবং ধন্যবাদ সূচক বক্তব্য রাখেন দপ্তরের যুগ্ম অধিকর্তা পাইমং মগ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিগণ পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার ৩টি মহকুমার ৪৭টি কোচিং সেন্টারের জন্য ফুটবল, ভলিবল, খো-খো, হকি, হ্যান্ডবল, জুডো ইত্যাদি খেলার সামগ্রী সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের হাতে তুলে দেন।