অনলাইন ডেস্ক, ২৭ ফেব্রুয়ারী।। রাশিয়ান আগ্রাসন থেকে মাতৃভূমিকে রক্ষায় পুরুষদের পাশাপাশি ইউক্রেনের বহু নারী অস্ত্র হাতে সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করছে। এবার এ তালিকায় যুক্ত হলেন দেশটির সাবেক মিস গ্র্যান্ড ইউক্রেন বিজয়ী আনাস্তাসিয়া লেনা। ২০১৫ সালে মিস গ্র্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল বিউটি কনটেস্টে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। হাইহিল ফ্যাশন বুট ছেড়ে এবার তিনি সেনা বুট পরেছেন। সম্প্রতি, নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে অস্ত্র হাতে একটি ছবি পোস্ট করেন আনাস্তাসিয়া।
ধারণা করা হচ্ছে, তিনি সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণের পূর্বে ছবিটি তুলেছিলেন। শনিবার ইংরেজিতে আরেক পোস্টে তিনি বলেন, ‘আক্রমণের অভিপ্রায়ে যারা ইউক্রেনের সীমান্ত অতিক্রম করবে তাদের হত্যা করা হবে!’। পোস্টে সশস্ত্র সৈন্যদের একটি রাস্তা অবরোধ করার ছবিও জুড়ে দেন এই সুন্দরী। আরেকটি পোস্টে কৌতুক করে তিনি বলেন, ‘আমাদের [ইউক্রেনের] সেনাবাহিনী এমনভাবে লড়াই করছে যাতে মনে হচ্ছে ন্যাটোকেও ইউক্রেনে প্রবেশের জন্য আবেদন করতে হবে’।
তিনি তার ৭৫ হাজার ফলোয়ারের সঙ্গে একটি ছবিও শেয়ার করেছেন যাতে দেখা যায় যে, সৈন্যরা ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে হাঁটছে। জেলেনস্কিকে তিনি ‘একজন সত্যিকারের এবং শক্তিশালী নেতা’ও বলেছেন।বৃহস্পতিবার আক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে এই মডেল তার ইন্সটাগ্রাম স্টোরিতে ইউক্রেনীয় সশস্ত্র বাহিনীকে সমর্থন এবং অনুদানের অনুরোধ জানিয়ে পোস্ট করেছেন।
কিয়েভের স্লাভিস্টিক ইউনিভার্সিটি থেকে মার্কেটিং এবং ম্যানেজমেন্ট স্নাতক এই সুন্দরী তার পেজে বেশ কয়েকটি ছবি পোস্ট করেছেন যেখানে খেলাধুলার জন্য জঙ্গলময় এলাকায় সম্পূর্ণ সামরিক পোশাকে তাকে এয়ারসফ্ট বন্দুক হাতে দেখা যাচ্ছে। এবার তিনি আসল সীসার বুলেট নিয়ে নেমেছেন। তিনি তুরস্কে একজন মডেল এবং জনসংযোগ ব্যবস্থাপক হিসাবে কাজ করতেন যা যুদ্ধক্ষেত্রের সহিংসতা থেকে অনেক দূরে ছিল। তিনি পাঁচটি ভাষায় কথা বলেন এবং অনুবাদক হিসেবেও কাজ করেছেন।
বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে নিজ দেশের নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। তার এ আহ্বানে পুরুষদের পাশাপাশি হাজারো নারী সাড়া দিয়েছে। তারা অস্ত্র চালনার প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। ইতোমধ্যে,হাজারো নারী সরাসরি যুদ্ধেও অংশগ্রহণ করেছেন। ইউক্রেনের সেনাবাহিনীতে প্রায় ৩৬ হাজার অস্ত্র চালনায় প্রশিক্ষিত নারী সদস্য রয়েছে। বিশ্বের অন্যতম সশস্ত্র শক্তিশালী নারী বাহিনীর অধিকারীও ইউক্রেন। ইউক্রেনের বহু পরিবার নিজেদের ছেলে সন্তানের পাশাপাশি কন্যা সন্তানকেও যুদ্ধে পাঠাচ্ছে।