CM Biplab: পিছিয়ে পড়া অঞ্চলের অপবাদ থেকে করবুককে মুক্ত করে বহুমুখী উন্নয়নধারা রূপায়িত হচ্ছে, বললেন মুখ্যমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার করবুক, ২৫ ফেব্রুয়ারী।। প্রত্যন্ত ও পিছিয়েপড়া অঞ্চলের অপবাদ থেকে করবুককে মুক্ত করে বহুমুখী উন্নয়নধারা এই অঞ্চলে রূপায়িত হচ্ছে। আগামী ৪ থেকে ৫ বছরে বর্তমান প্রকল্পগুলি ছাড়াও কৌশলগত অংশীদার হিসেবে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক রাজ্যের উন্নয়নে অতিরিক্ত ৮ হাজার কোটি টাকা বায় করবে। এই অর্থ ব্যয় রাজ্যের সার্বিক বিকাশে ও পরিকাঠামো উন্নয়নে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করবে।

আজ গোমতী জেলার করবুক মহকুমা শাসকের কার্যালয়ের নবনির্মিত ভবন ও দ্বিতল বিশিষ্ট এগ্রিমার্কেট স্টলের উদ্বোধন করে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব। উদ্বোধন শেষে তিনি মার্কেট স্টলগুলি ও মহকুমা শাসক কার্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ পরিদর্শন করেন। গ্রাম উন্নয়ন দপ্তর দ্বারা নির্মিত এই পরিকাঠামোগুলির অত্যাধুনিক ডিজাইন ও পরিকল্পনার প্রশংসা করেন মুখ্যমন্ত্রী। মহকুমা শাসক কার্যালয় নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৫৮৭ কোটি টাকা ও ৩০টি এগ্রি মার্কেট স্টল নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১ কোটি টাকা।

মহকুমা শাসক কার্যালয়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব বলেন, শহর থেকে প্রান্তিক এলাকা পর্যন্ত রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নের সমবিকেন্দ্রীকরণে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে কাজ করছে সরকার। শিল্প উপযোগী গুচ্ছ সুযোগ সম্প্রসারণ, বাণিজ্যিক অনুকুল পরিমন্ডল সহ ক্ষুদ্র, মাঝারি স্বউদ্যোগীদের আর্থিক ও পরিকাঠামোগত সহায়তাকল্পে রাজ্যব্যাপী উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ চলছে।

এরই অঙ্গ হিসেবে জুম নির্ভর ও কৃষিকাজের সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের রোজগারের সৃষ্টির লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে সূচনা হওয়া এই এগ্রি স্টলগুলি। তিনি বলেন, সহায়ক মূলো ধান ক্রয় সহ কৃষক কল্যাণে গৃহিত একাধিক পদক্ষেপের ফলে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পাশাপাশি আত্মসম্মান সুনিশ্চিত হয়েছে অন্নদাতাদের। যুব উদ্যোগী রাজীব দেববর্মার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের জন্য সে এক অনন্য উপহার।

যে অঞ্চলকে পিছিয়েপড়া ও দুর্গম বলে অবহেলিত করা হত সেই অঞ্চলের যুবক রাজ্যে তৈরি হওয়া স্বনির্ভর মানসিকতায় ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেও বর্তমানে এক সফল উদ্যোগী। ডম্বুর কেন্দ্রিক পর্যটন শিল্পে আধুনিকীকরণের সংযোজনে ভাসমান রেস্তোরা স্থাপনের তার প্রস্তাবেরও প্রশংসা করেন তিনি৷ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, জনজাতিদের আর্থসামাজিক ও জীবনমান বিকাশে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে কাজ করছে সরকার। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পানীয়জল ও অন্যান্য পরিষেবা প্রদানে এসেছে ঊর্ধ্বগতি।

ডম্বুর, ত্রিপুরেশ্বরী মন্দির সহ পর্যটন সম্ভাবনাময় বিভিন্ন অঞ্চলকে একত্রিতকরণের মাধ্যমে রূপরেখা স্থির করে কাজ করছে সরকার। এই অঞ্চল শুধুমাত্র নিজেদের আর্থিক সমৃদ্ধি নয়, গোটা রাজ্যের অর্থনৈতিক বিকাশে অগ্রনী ভূমিকা নেবে। গন্ডাছড়া, করবুকের মত যে অঞ্চলগুলিতে কর্মচারিরা আগে কাজে যোগ দেওয়াকে শাস্তিমূলক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতেন, বর্তমানে অত্যাধুনিক পরিকাঠামো উন্নয়নের ছোঁয়ায় সেই কর্মচারিরাই কাজ করতে উৎসাহী হচ্ছেন।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিগতদিনে জনজাতিদের উন্নয়নে বিভিন্ন উদাসীনতা পরিলক্ষিত হয়েছে। কিন্তু বর্তমান সরকার দায়িত্বভার গ্রহণ করার পর স্বল্প সময়ের ব্যবধানে রিয়াং উদবাস্তুদের দীর্ঘ প্রতিক্ষিত সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা সম্ভব হয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিক প্রচেষ্টায়। মানুষের অধিকার চুরি করে রাজনৈতিক স্বার্থ সিদ্ধির সুযোগ ত্রিপুরাতে আর নেই। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সাংসদ রেবর্তী ত্রিপুরা বলেন, রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারের যৌথ ব্যবস্থাপনায় রাজ্যে বহুমুখী উন্নয়ন সাধিত হচ্ছে।

এদিন উদ্বোধন হওয়া মহকুমা কার্যালয় দ্রুততার সাথে নাগরিক পরিষেবা প্রদানে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, প্রশাসনিক সুযোগ সুবিধার বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে নাগরিক সমস্যা লাঘবই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। এই অঞ্চলে একটি কলেজ স্থাপনের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। উন্নত সড়ক ও অন্যান্য পরিকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে বদলে যাচ্ছে এই অঞ্চলের চেহারা।

রাজ্য সরকার দ্বারা গৃহিত বিভিন্ন ইতিবাচক পদক্ষেপের ফলে বাণিজ্যিক আমদানি ও রপ্তানীতেও এসেছে গতি। বর্তমান সরকারের সময়ে আত্মমর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে রাজ্যের সমস্ত জাতিগোষ্ঠীর মানুষের। এদিনের অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন গোমতী জেলার জেলাশাসক রাভেল হেমেন্দ্র কুমার, করবুক আরডি ব্লকের বিএসি’র চেয়ারম্যান অসীম কুমার ত্রিপুরা প্রমুখ।

এদিন এগ্রি মার্কেটস্টল উদ্বোধন শেষে এর পাশেই যুব উদ্যোগী রাজীব দেববর্মার রেস্তোরাও পরিদর্শন করেন মুখ্যমন্ত্রী। উল্লেখ্য, আত্মনির্ভরতার ভাবনায় অনুপ্রাণিত হয়ে পেশায় ইঞ্জিনিয়ার রাজীব দেববর্মা অত্যাধুনিকমাণের এই রেস্তোরাটি পরিচালন করছেন করবুক বাজারে। মুখ্যমন্ত্রীকে তিনি জানান, এর মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা অনায়াসে উপার্জন করছেন।

তিনজনের কর্মসংস্থানেরও সুযোগ হয়েছে এখানে। তার এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন মুখ্যমন্ত্রী শ্রী দেববর্মা বলেন, আত্মনির্ভর ভাবনা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এই রেস্তোরা থেকে প্রতিমাসে অনায়াসে ভাল উপার্জন করছেন। নিজে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি আরও তিনজনের কর্মসূজন হয়েছে এখানে।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *